শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৫

প্রকৃতি

চড়ুই পাখির মিলনমেলা

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

চড়ুই পাখির মিলনমেলা

চঞ্চল প্রকৃতির ও পরিবেশবান্ধব হাজার হাজার চড়ুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। স্টেশনে সারা দিন মানুষের ট্রেনে ওঠানামার কোলাহল থাকলেও নিরাপদ ভেবে থাকছে কিংবা উড়ছে চড়ুই পাখির ঝাঁক। এসব পাখির কিচিরমিচির শব্দ যেন সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন। রেলওয়ে স্টেশনটিতে আধুনিকায়তনের ছাপ লেগেছে, হয়েছে নতুন ভবন। শহরের মাঝে অবস্থিত এ স্টেশনটি। তাই ২৪ ঘণ্টাই থাকে মানুষের আনাগোনা। দিনাজপুর রেল স্টেশনে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে ডাউয়া, বকুল, আম ও আতাসহ বিভিন্ন গাছ। প্লাটফর্মের মাঝের গাছের পাতায় পাতায় কিংবা বিদ্যুতের তারে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখির সারি। তবে ভোর হতেই বেশিরভাগ পাখি চলে যায় আহারের সন্ধানে শহরের অন্যত্র কিংবা দূর-দূরান্তে। আবার বিকাল হলেই সব চড়ুই ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসে নীড়ে।

 আর তখনই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেশন এলাকা। এখানে কেউ পাখি শিকার বা পাখিকে ঢিল ছুড়তে পারে না। কেউ চেষ্টা করলেও স্টেশন এলাকার দোকানদার, কুলি, হকাররাই এতে বাদসাধেন। তাই গাছের পাতায় পাতায় ভরে থাকে অগণিত চড়ুই পাখি। চড়ুই একটি চঞ্চল প্রকৃতির পাখি। এরা মানুষের আশপাশে বসবাস করতে ভালোবাসে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এদের কিচিরমিচির গান চারপাশকে জাগিয়ে তোলে। চড়ুই বছরে একাধিকবার প্রজনন করে। প্রতিবারে ৪ থেকে ছয়টি করে ডিম দেয়। এদের ছানা বেঁচে থাকে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ। চড়ুই প্রধানত শস্যদানা, ঘাসের বিচির পাশাপাশি অসংখ্য পোকামাকড় খেয়ে থাকে। বিশেষ করে পোকার শুককীট, মুককীট বা লেদাপোকা যারা শস্য উৎপাদনের অন্তরায়। চড়ুই পাখি এসব পোকার ক্ষতিকর আক্রমণ থেকে ফসল, সবজির ক্ষেত, বনাঞ্চল বাঁচিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে এসব খাবার খেয়ে তারাও বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই দিন দিন এদের সংখ্যা কমলেও ব্যতিক্রম দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর