শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০৩

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বেতার সম্প্রচার শুরু

গৌতম লাহিড়ী, নয়াদিল্লি

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বেতার সম্প্রচার শুরু

বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন শিখরে উন্নীত করতে গতকাল নয়াদিল্লিতে যৌথ বেতার অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করলেন দুই দেশের তথ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করা হয় বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর তথ্যচিত্র নির্মাণের। দিল্লির সাংগ্রিলা হোটেলে ভারত সফররত বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও ভারতের তথ্যমন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকর বোতাম টিপে বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সূচনা করেন। পরে তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অস্থায়ী হাইকমিশনার রকিবুল হক ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিক্রম দোরাইস্বামী। বেতার অনুষ্ঠানটি দুই দেশের এফএম রেডিওতে শোনা যাবে। সকাল ও সন্ধ্যায় দুই দেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণ ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কলকাতায় শুরু হবে। দুই তথ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন আগামী বছরের মার্চের মধ্যে চলচ্চিত্রটি দুই দেশে মুক্তি পেতে হবে। আগামী মার্চ থেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালন শুরু হবে। ভারতের মন্ত্রী জাওড়েকর বলেন, ‘ইতিমধ্যে এই যৌথ প্রযোজনার জন্য ভারত সরকার আর্থিক বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজনে ভারত আরও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ ছবিটির নির্দেশনা দেবেন ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উভয় দেশের সম্পর্ক সাংস্কৃতিক বন্ধনের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হবে। বর্তমানে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্পর্ক যে সোনালি অধ্যায়ে পৌঁছেছে তাকে আরও উন্নত শিখরে নিয়ে যেতেই এই সাংস্কৃতিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন একটি মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে অঙ্গীকার করেছেন এটা তার প্রতীক।’ আজ মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ : বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন। প্রকৃতপক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত রাইসিনা-বার্তালাপের জন্য আগত ১৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দেখা করছেন। সেই সময় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুরোধ করলে তিনি সম্মতি দেন।

রাইসিনা বার্তালাপে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশ সফরে থাকায় আসতে পারেননি। ভারতের গণমাধ্যমে জল্পনা চলে যে নাগরিক আইন সংশোধনের বয়ানে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করায় শাহরিয়ার এই বার্তালাপ এড়িয়ে গেছেন। তাই রাইসিনা ডায়ালগে আমন্ত্রিত না হলেও তথ্যমন্ত্রীকে এই ব্যতিক্রমী সম্মান দিতে এগোল ভারত সরকার। মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পরেই ড. হাছান হায়দরাবাদ রওনা হবেন। সেখানে তিনি রামজি ফিল্ম সিটি পরিদর্শন করবেন। বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি নামে বাংলাদেশও একটি নির্মাণ করছে। সে জন্য ড. হাছান সরেজমিন আধুনিক স্টুডিও দেখতে যাবেন। ভারতের তথ্যমন্ত্রী বিক্রম জাওড়েকর জানান, তার দেশ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। এর আগে তিনি গতকাল অপরাহ্ণে দিল্লির থিংকট্যাংক বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশনে ভাষণ দেন। সেখানে উভয় দেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর বিশদভাবে বলেন।


আপনার মন্তব্য