শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০৪

দাম কমেছে পিয়াজের অস্বস্তি সবজিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দাম কমেছে পিয়াজের অস্বস্তি সবজিতে

রাজধানীর বাজারগুলোয় পিয়াজের ঝাঁজ কমেছে। দেশি পিয়াজের দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। আর মিসরের পিয়াজ ৮৫ ও চীনা পিয়াজ ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ভারত পিয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর দাম কমতে শুরু করেছে। তবে শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমে বাজার ভরপুর থাকলেও দাম এখনো বেশ চড়া। অন্যদিকে আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল, ডিম ও চাল। অপরিবর্তিত আছে গরু, খাসি ও মুরগির মাংস, চাল-ডালের দাম।

গতকাল কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, নিউ মার্কেট, রামপুরা, মালিবাগ, হাজীপাড়া, খিলগাঁও, মিরপুর, কাফরুল, পল্লবীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গত বছরের শেষের দিকে ভারত রপ্তানি  বন্ধ করায় পিয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে রেকর্ড ২৫০ টাকায় পৌঁছে। তবে নতুন দেশি পিয়াজ বাজারে আসার পর দাম কিছুটা কমে আসে। নতুন দেশি পিয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই নতুন দেশি পিয়াজ ১৮০ টাকায় উঠে যায়। গত সপ্তাহেও বাজারভেদে নতুন দেশি পিয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এ পরিস্থিতিতে ভারত থেকে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবর আসায় কমতে শুরু করেছে দাম। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রহমত মিয়া বলেন, ‘ভারত থেকে পিয়াজ আসা বন্ধ হওয়ায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এখন ভারত পিয়াজ দেওয়ার কথা বলায় দাম কমে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরও কমবে।’ খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জসিম খান বলেন, ‘গত সপ্তাহে দুই বস্তা পিয়াজ কিনেছিলাম ১৩০ টাকা কেজিতে। এখন সে পিয়াজ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।’ তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখনো পিয়াজের দাম অনেক বেশি। মিরপুরের আল হাসান বলেন, ‘এখন পিয়াজের ভরা মৌসুম। এ সময় কেজি ১০০ টাকা হওয়া কিছুতেই স্বাভাবিক নয়। সর্বোচ্চ ৫০ টাকা থাকা উচিত।’ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৪০-৬০ টাকা হয়েছে। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। বাজার ও মানভেদে পেঁপের কেজি ৪০-৬০ টাকা। করলা ৫০-৭০ টাকা ও দেশি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও গাজরের। শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। একই দাম বাঁধাকপির। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। মুলা মিলছে ২০-২৫ টাকায়। নতুন গোল আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। হাজীপাড়া বৌবাজারে আসা গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন, ‘শীতের সময় সবজির এত দাম থাকে না। কিন্তু এবার বাজারে কোনো সবজির দামই কমতে চাচ্ছে না। গত বছর এমন সময় শিমের কেজি ১০-২০ টাকা ছিল। টমেটো ছিল ২০ টাকার মতো। কিন্তু এখন বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে এত দাম দিয়ে তো সবজি কিনে খাওয়া সম্ভব নয়।’ রামপুরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ ৩০০-৩৫০, মলা ৩২০-৩৫০, ছোট পুঁটি (তাজা) ৪০০-৫০০, শিং ৩০০-৬৫০, পাবদা ৪০০-৫০০, চিংড়ি (গলদা) ৫০০-৬০০, বাগদা ৫৫০-৯০০, দেশি চিংড়ি ৩৫০-৫০০, রুই ২৮০-৩৫০, মৃগেল ২৫০-৩০০, পাঙ্গাশ ১২০-১৮০, তেলাপিয়া ১৩০-১৮০, কই ১৮০-২০০ ও কাতল ২৫০-২৮০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১২০-১২৫, লেয়ার ১৮০-২০০, সাদা লেয়ার ১৭০-১৯০ ও সোনালি ২৬০-২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংস ৫৫০, খাসির ৭৮০, ছাগলের ৭২০ মাংস টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ আর খোলা সাদা সয়াবিন ৯০ টাকা লিটার। এ ছাড়া অপরিবর্তিত আছে ডিম, চাল, ডাল, আদা, রসুন, সরিষার তেল, এলাচ ও দারচিনির দাম।


আপনার মন্তব্য