শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫২

দুই লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে গায়েবানা জানাজা, অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নওগাঁ প্রতিনিধি

দুই লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

গুলিতে নিহত হওয়ার দুই দিন পর নওগাঁর পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমানা থেকে উদ্ধার হওয়া দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে সন্দ্বীপ কুমার (২৪) ও কামাল আহমেদের (৩২) লাশ ফেরত দেওয়া হয়।

বিজিবি ও এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের সন্দ্বীপ কুমার, চকবিষ্ণুপুর দিঘিপাড়ার মফিজ উদ্দিন ও কাটাপুকুর গ্রামের কামাল আহমেদ ১০-১৫ জনের সঙ্গে পোরশার দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে গরু নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও মফিজ, কামাল ও সন্দ্বীপ বিএসএফের গুলিতে মারা যান। ওই তিন বাংলাদেশির মধ্যে মফিজ উদ্দিনের লাশ দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১ নম্বর প্রধান স্তম্ভের ১০ নম্বর উপস্তম্ভের কাছে বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ২০০ গজ ভিতরে নীলমারী বিল এলাকায় পাওয়া যায়। অন্য দুজন সন্দ্বীপ কুমার ও কামালের লাশ পড়ে ছিল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের অংশে। লাশ দুটি বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যান। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুয়ারপাল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম আরিফুল ইসলাম ও ভারতের পক্ষে ১৫৯ বিএসএফের কমান্ডার হার্ষা জসি নেতৃত্ব দেন। বিজিবিসূত্র আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়। বিএসএফ গুলি করে তিন বাংলাদেশিকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। বৈঠকে ময়নাতদন্তসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে বিএসএফ।

সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের অনশন ও অবস্থান : নওগাঁ ও লালমনিরহাট সীমান্তে সম্প্রতি দুই দিনের ব্যবধানে ৭ বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই ছাত্র ‘অবস্থান’ ও অনশনে গেছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চার দফা দাবিতে গতকাল বিকাল ৩টায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন জাবি ছাত্র আরিফুল ইসলাম আদিব। তিনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘অবস্থান’ নিয়েছেন নাসির আব্দুল্লাহ। তিনি এমবিএ অধ্যয়নরত।

আদিবের দাবিগুলো হলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সব হত্যার আন্তর্জাতিক আইনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা। ভারতকে সীমান্তে হত্যার জন্য ক্ষমা চেয়ে আর হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। সীমান্তে হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে তদন্ত সাপেক্ষে দুই দেশের  যৌথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জাতীয় সংসদে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ করে নিন্দা জানাতে হবে। আদিব বলেন, আমার এই চার দফা দাবির প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য না এলে অনশন ভাঙব না।

ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল : বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশে নাগরিক’ ব্যানারে গায়েবানা জানাজা আয়োজন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গায়েবানা জানাজার পর বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘সীমান্তে হত্যা কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান  দেন। জানাজার পর রাজু ভাস্কর্যের নিচে অবস্থান নেন নাসির। অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা প্রতিনিয়ত একের পর এক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করেই চলছে। তাদের যদি অপরাধ থাকে, তাহলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করুন। হত্যা করবে কেন?


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর