শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:২৬

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেড়ে যাবে গরিবের সংখ্যা

সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বাড়াতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেড়ে যাবে গরিবের সংখ্যা

রাজধানীর মিরপুরে রিকশা চালান শেরপুরের আব্বাস আলী। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ৫ হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন রূপনগর টিনশেড এলাকার ছোট এক রুমে। করোনাভাইরাসের আগে তিনি রিকশা চালিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করতেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তার আয় একেবারেই কমে গেছে। গতকাল সারা দিনে তার আয় ছিল মাত্র দেড়শ টাকা। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে আব্বাস আলী বলেন, ‘হঠাৎ গরিব অইয়া গেলামরে বাই (ভাই)...!’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস’র রিসার্স ডিরেক্টর ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘যারা প্রান্তিক সীমায় ছিল, তারা এই ধাক্কায় দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অনেক বেশি মানুষ গরিব হবে।’  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা উচ্চবিত্ত তাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। কিন্তু যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে রাজধানীতে এসেছেন, তাদের ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়বে ব্যাপক মাত্রায়। এদের মধ্যে রয়েছেন- রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, হোটেল শ্রমিক, বিভিন্ন ছোট কারখানা ও দোকানে কর্মরত শ্রমিক, মুচি, ফুটপাথে খাদ্য ও পণ্য বিক্রেতা, ফেরিওয়ালাসহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ। এই শ্রেণিটির অনেকেই রাজধানী থেকে গ্রামে চলে গেছেন। যারা আছেন, তারা এখন আয়ের মধ্যে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে যত সময় লাগবে তত বেশি গরিব মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। 

ড. জায়েদ বখত বলেন, এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়িয়ে গরিব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া। এই সহায়তা এমনভাবে দিতে হবে যেন সেটি সঠিকভাবে প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌঁছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আয়বর্ধক কর্মসূচি নিতে হবে, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ জড়িত হতে পারে।

১৬ কোটি জনসংখ্যার ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ এক দশকে ধারাবাহিকভাবে জিডিপি বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। গত ডিসেম্বরে পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্য দেয়, এক বছরের ব্যবধানে ১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে এসেছিল। এ হিসাবে ১৬ কোটি মানুষের দেশে দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৮ লাখে। শতাংশের দিক থেকে এটি জনসংখ্যার ২০ দশমিক ৫ ভাগ। ২০১৬ সালেও বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্যের হার ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা গত বছর ১০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের আঘাত এতটা ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠেছে যে, এখন দারিদ্র্য বিমোচনের এই সাফল্যের গল্পটা আবার উল্টোপথে না হাঁটতে শুরু করে।


আপনার মন্তব্য