শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৫২

বিপর্যয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত

আপৎকালীন তহবিল গঠনের সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মোট শ্রমশক্তির সিংহভাগ কর্মসংস্থান হয় ছোট ছোট ব্যক্তি উদ্যোগ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত ঘিরে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের এ খাতটিতে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত উদ্যোক্তা ও শ্রমিক উভয়েই এখন বিপদে। যারা দোকান, হোটেল বা গ্যারেজের মালিক তারা সেগুলো বন্ধ রেখেছেন। ফলে মূলধন ভেঙে চলছে দৈনন্দিন ব্যয়। যারা এসবে শ্রম দিতেন তারাও হঠাৎ কাজ হারিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এ পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৩৫ লাখ। এর মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ছিল ৫ কোটি ৬৫ লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এই মুহূর্তে জরিপ হলে দেখা যাবে এদের অনেকের চাকরি নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের কতজন আবার কাজ পাবেন সেটিও নিশ্চিত নয়। কারণ, এসব খাতের কর্মসংস্থান হয় মূলত মৌখিকভাবে বা চুক্তিভিত্তিক। এদের অনেকে গৃহকর্মীও। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) রিসার্স ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনাভাইরাস এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে সেটির জন্য স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি দুই ধরনের উদ্যোগের কথা ভাবতে হবে। স্বল্পমেয়াদে এই মুহূর্তে যারা কাজ হারিয়েছেন, তাদের খাদ্য সহায়তা দিতে হবে। পরবর্তীতে যাতে এসব শ্রমিক আবার কাজ ফিরে পায়, অর্থনীতিতে যাতে চাহিদা ও জোগান তৈরি হয়, সেজন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে ঋণ সহায়তা দিতে হবে। এ জন্য সরকারের উচিত দ্রুত একটি আপৎকালীন তহবিল তৈরি করা।

দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, নির্মাণ কাজ, হকার, চাতাল, সেলাই কাজ, ওয়েল্ডিং, তাঁত, বিড়ি কারখানা, প্রিন্টিং, দর্জি দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, গৃহস্থালি কর্ম, গ্যারেজ এবং ঢাকার জিঞ্জিরা ও বগুড়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে যেসব ছোট ছোট উদ্যোগ গড়ে উঠেছে মূলত এসব খাতকেই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত বলে গণ্য করা হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৮৯ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজিত আছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী যে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা বলা হচ্ছে, সেটির জন্য সবার আগে মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে যাচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোগে পরিচালিত এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের হার ছিল ৭৫ শতাংশ। তখন আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করতেন ২৫ শতাংশ মানুষ। ২০১০ সালে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের হার বেড়ে প্রায় ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অবদান প্রায় ৪০ শতাংশ। দেশের অর্থনীতিতে নীরবে-নিভৃতে এ খাতটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চললেও সরকারি সুবিধার ক্ষেত্রে সবসময়, সবচেয়ে বেশি অবহেলা পেয়ে আসছে। বিএএসএফ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজ্জাদুল হাসান এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত যে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে তা এক কথায় অসাধারণ। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প, কিংবা সেবা খাত, কখনো বা ওষুধ শিল্পের অবদান নিয়ে যতটা হৈচৈ হয় তার সিকি ভাগও স্বীকৃতি মেলে না দুর্ভাগা এই  খাত নিয়ে।


আপনার মন্তব্য