শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩২

অপহরণ সিন্ডিকেটে শ্যালক-দুলাভাই

মালয়েশিয়ায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় বাংলাদেশে

মাহবুব মমতাজী

মালয়েশিয়ায় অপহরণ সিন্ডিকেটের হোতা শ্যালক-দুলাভাইকে চিহ্নিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন কামরুল ইসলাম ও রহিম সরদার। কামরুল সম্পর্কে রহিমের দুলাভাই। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার তারাপাল্লা গ্রামে। তারা প্রায় দেড় দশক ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। এর মধ্যে কয়েক বছর ধরে তারা মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী প্রবাসীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছেন। আর এ মুক্তিপণের টাকা আদায় হচ্ছিল বাংলাদেশে বিকাশের মাধ্যমে। সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া ছয়জন এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- রাসেল খন্দকার, শাহানাজ বেগম, সুমন ভূঁইয়া, বেলাল বিন কারী, আরিফ হোসেন ও জাবেদ হোসেন। তাদের মধ্যে রাসেল বাদে সবাই ৪ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় করা একটি মামলার সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, জাজিরা থানার সেনেরচর গ্রামের জাহাঙ্গীর মল্লিক আট বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এলাকার পুতুং এলাকায় এসি মেরামতের কাজ করেন তিনি। চলতি বছর জানুয়ারিতে তিনি দেশে এসেছিলেন। মালয়েশিয়ায় ১৮ জুন কাজ শেষে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন জাহাঙ্গীর। আর এ সময় কামরুল ইসলাম ও রহিম সরদার সেখান থেকে তাকে ডেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে জাহাঙ্গীরের মুঠোফোন দিয়ে বাংলাদেশে তার ভাই আলমগীর মল্লিকের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। আর টাকা না দিলে জাহাঙ্গীরকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা। এ অবস্থায় ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৮ লাখ টাকা পাঠান আলমগীর। টাকা পাওয়ার পর নেশাজাতীয় খাবার খাইয়ে জাহাঙ্গীরকে নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান কামরুল ও রহিম। এ ঘটনায় আলমগীর মল্লিক জাজিরা থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে শাহানাজ অপহরণকারী কামরুলের আপন বোন, বেলাল বিন কারী তার ভগ্নিপতি, আরিফ হোসেন বিকাশ এজেন্ট এবং রাসেল প্রতিবেশী। চক্রের আরও ছয় বাংলাদেশি পলাতক। এই চক্রে জড়িতদের মধ্যে আরও আছেন চাঁদপুরের মরিয়ম ও রিয়া। এ ছাড়া রয়েছেন দুলাল, রাজ্জাক ও জাহাঙ্গীর। তারা সবাই পলাতক। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ হওয়া মুঠোফোনে পাওয়া তথ্যে চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী অপহরণকারী চক্রের হোতা কামরুল ওই দেশে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। আর রহিমের সেখানে ব্যবসা রয়েছে। তারা বাংলাদেশে যাদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করতেন, তাদের প্রতি ৩০ হাজারে ৮ হাজার টাকা করে কমিশন দিতেন। এভাবে তারা কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সিআইডি তদন্তে জানতে পারে, চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে সেখানকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অপহরণ করে আটকে রাখতেন। এরপর মারধর করে এর ভিডিও ধারণ করে স্বজনদের কাছে পাঠাতেন। পরে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করতেন তারা। আর এ চক্রের গ্রেফতার সদস্যরা দেশে বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা আদায় করতেন।

সূত্র জানায়, এর আগেও আমান উল্লাহ ও হামিদ হোসেন নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। দুজনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায়। গত বছর ৩০ জুলাই প্রথমে হামিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ৩ আগস্ট আমান উল্লাহকেও গ্রেফতার করা হয়।

 তাদের কয়েকজন সদস্য থাকেন মালয়েশিয়ায়, বাকিরা বাংলাদেশে। কাজের খোঁজে যাওয়া প্রবাসীদের অপহরণ করা হতো মালয়েশিয়ায়। আর ভালো মানুষের ভান করে অপহৃতদের উদ্ধারে সহায়তার নামে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত দেশে থাকা চক্রের বাকি সদস্যরা। মুক্তিপণের টাকা নেওয়া হতো বিকাশের মাধ্যমে। টাকা হাতে পেলে চক্রের সদস্যরা জানিয়ে দিত মালয়েশিয়ায় থাকা সহযোগীদের। তারপর ছেড়ে দেওয়া হতো অপহৃত ব্যক্তিকে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর