শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩০

বছরের পর বছর যায় শেষ হয় না মামলার তদন্ত

অদৃশ্য চাপের অভিযোগ

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

বছরের পর বছর ধরে শেষ হচ্ছে না চট্টগ্রামের কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্ত কার্যক্রম। দীর্ঘ এ সময়ে পরিবর্তন হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা ও সংস্থা। কিন্তু কেউ ভেদ করতে পারেনি সিংহভাগ মামলার রহস্যের জট। এমনকি আসামি গ্রেফতারের খাতাও শূন্য কিছু কিছু মামলার। মামলা তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- রাজনৈতিক চাপের কারণে এসব মামলার আসামি গ্রেফতার ও চার্জশিট দেওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, অনেক সময় মামলার মূল রহস্য বের করতে সময় লাগে। তাই ইচ্ছা থাকলেও দ্রুত চার্জশিট দেওয়া যায় না। তবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মামলাগুলো দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ জন্য একটি মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিষয়টা তদারকি করছেন। মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আসামি গ্রেফতার হয়নি এবং চার্জশিট দেওয়া যাচ্ছে না এমন মামলাগুলোয় সম্পৃক্তদের প্রায় সবাই রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট। আসামি গ্রেফতার কিংবা তদন্তে নানা দিক থেকে রাজনৈতিক চাপ আসে। তাই মামলাগুলো চাইলেও দ্রুত শেষ করতে পারছে না তদন্ত কর্মকর্তারা। জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই হচ্ছে হত্যা মামলা। এসব হত্যায় বেশির ভাগরই কারণ অজানা তদন্ত সংস্থার। এমনকি মূল হোতা কিংবা আসামিদের গ্রেফতারও করতে পারেনি কিছু কিছু মামলার। উল্টো প্রাণ ভয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছে কিছু কিছু মামলার বাদী ও তাদের পরিবার। ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। খুনের এক মাসের মধ্যেই এ খুনে ‘সরাসরি যুক্ত’ এবং অস্ত্র সরবারহকারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন আরও দুই সন্দেহভাজন রাশেদ ও নবী। কিন্তু তদন্তের মাঝপথে অজ্ঞাত কারণে থমকে যায় গতি। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় এ কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া মুছা ও কালু। দীর্ঘ চার বছর মামলাটি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করার পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ সময় মামলাটি তদন্ত করলেও এখনো পুলিশ বের করতে পারেনি খুনের কারণ ও হোতাদের। এদিকে, ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে খুন চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শিক্ষিকা অঞ্জলি রানী দেবী। ঘটনার পর প্রায় ছয় বছর হলেও এখনো গ্রেফতার করা যায়নি এ খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে। উদ্ঘাটন করা যায়নি ঘটনার আসল রহস্য। উল্টো নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শহর ছেড়েছে অঞ্জলি রানীর পরিবার।  ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর খুন হন নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস। এরই মধ্যে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই। পিবিআইর দাবি দ্রুতই দেওয়া হবে এ হত্যা মামলার চার্জশিট। ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মী রিপেন সিংহ। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয় পতেঙ্গার চরপাড়া বেড়িবাঁধ থেকে। দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো উদ্ঘাটন হয়নি এ খুনের ক্লু। ২০১৮ সালের ১ আগস্ট নগরীর চান্দগাঁও ফরিদাপাড়ায় খুন হন গৃহবধূ রহিমা। দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো অজানা ঘটনার কারণ। গ্রেফতার হয়নি কোনো আসামি। ২০১৯ সালের ২৯ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে খুন হন রেলের দরপত্র নিয়ে জোড়া খুনসহ অন্তত ১৭টি মামলার আসামি অমিত মুহুরী। এ ঘটনায় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামি করা হয় রিপন নাথকে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ খুনের পেছনে যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবরকে মূল ইন্দনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ হত্যায় রিপন নাথকে গ্রেফতার দেখানো ছাড়া আর কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর