শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩২

করোনায় বদলেছে জীবন

মাস্ক নিয়ে আছে কড়াকড়ি, অনেকে মানছেন না নিয়ম, বদলেছে রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের ধরন, সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের আগে তাপমাত্রা দেখা হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে স্যানিটাইজার, প্রচার হচ্ছে সচেতনতামূলক বার্তা

জিন্নাতুন নূর

করোনায় বদলেছে জীবন

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর সাত মাস পার হয়েছে। এর আগে প্রায় পাঁচ মাস সাধারণের চলাচলে সরকারি বিধিনিষেধ ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হলেও অনেক কিছুই আর আগের মতো নেই। করোনায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই বদলে গেছে। বদলেছে জীবনযাপনের নানা অভ্যাস। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানসহ মেগা শপ ও রেস্টুরেন্টে এখন মাস্ক ব্যবহার নিয়ে আছে কড়াকড়ি। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে প্রবেশের আগে সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সুরক্ষামূলক এসব উদ্যোগ গ্রহণে আরও কঠোর হওয়া উচিত বলে মনে করছেন। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে এ কথা ঠিক। তবে মাস্ক ছাড়া কোথাও যাতায়াত করা উচিত নয়। কারণ মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমেই এই ভাইরাস অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকেও ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে এখন থেকে মাস্ক ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতেও সেবা দেওয়া হবে না। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ঘুরে দেখা যায়, কর্মীদের কর্মস্থলে প্রবেশের আগে ও পরে বেশ কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবর্তিত নিয়মে অফিস করতে হচ্ছে। কোথাও কর্মস্থলের প্রবেশমুখে হাতধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ডিসইনফ্যাক্ট ডোর পার হয়ে কর্মস্থলে ঢুকতে হচ্ছে। এরপর পরীক্ষা করা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা। আর ডাক্তারের চেম্বার ও ফার্মেসিতে আলাদা কাচের বা প্লাস্টিকের দেয়াল দিয়ে সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

শপিং করার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। গতকাল মিরপুর ১২ নম্বর আড়ং-এর আউটলেটে প্রবেশের সময় চোখে পড়ল গোল গোল স্টিকার। এতে লেখা সোশ্যাল ‘ডিসট্যান্সিং ফুট স্টিকার’। আড়ংয়ে আসা ক্রেতারা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন সেজন্য এই স্টিকার লাগানো হয়েছে। আবার ক্রেতারা চাইলেই এখন হুটহাট এই লাইফস্টাইল হাউসে ঢুকে পড়তে পারবেন না। কারণ প্রতিষ্ঠানটির বাইরে থাকা নিরাপত্তা কর্মী প্রথমে ক্রেতার শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখেন। এরপর হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে দেন। আর ক্রেতার মুখে যদি কোনো কারণে মাস্ক না থাকে তাহলে আড়ংয়ের কর্মীরা তাদের নিজস্ব মাস্ক বক্স থেকে ক্রেতাকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেন। করোনা পরবর্তী সময়ে এসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মানতে ফ্যাশন হাউসটির ভিতরেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। একটু পরপর সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে রেকর্ড করা সচেতনতামূলক অডিওবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পণ্য দেখতে ক্রেতারা ভিড় জমালেই কর্মীরা এসে দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য দেখতে বলছেন। ক্যাশ কাউন্টারের সামনেও ক্রেতা যাতে গা ঘেঁষাঘেষি করে না দাঁড়ায় তার জন্য ফুট স্টিকার লাগানো হয়েছে। সচেতনতার অংশ হিসেবে ব্র্যান্ড হাউসটি এখন আর ক্রেতাদের ট্রায়াল রুমের সুবিধা দিচ্ছে না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য দৈনিক চারবার জীবাণুনাশক দিয়ে ফ্লোর পরিষ্কার করা হচ্ছে আর এক ঘণ্টা পর পর যেসব স্থানে হাতের স্পর্শ বেশি হয় তা জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে। গতকাল আড়ংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব জানান। তারা আরও বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে জীবন ব্যবস্থায় আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ক্রেতা ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে এ জন্য ফ্যাশন হাউসটিতেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে নতুন নিয়মকানুন অনুসরণ করা হচ্ছে।

পরিবর্তন এসেছে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটাতেও। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত কয়েক মাসে মানুষের বাজার করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষ এখন বাজারে কম যাচ্ছেন। সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় বয়স্ক ব্যক্তিরাও বাজারে কম যাচ্ছেন। রাজধানীর বৃহত্তম মেগা শপ প্রিন্স বাজারে সরেজমিন ঘুরে বেশ কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। এই মেগা শপের প্রবেশ পথেই ‘মাস্ক ছাড়া কোনো সেবা দেওয়া হবে না’ টাঙানো হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ক্রেতাদের উদ্দেশে কিছুক্ষণ পরপর সচেতনতামূলক অডিও বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। ক্যাশ কাউন্টারের সামনে ক্রেতার ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। মিরপুর-১২ নম্বর প্রিন্স বাজারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সুমন চন্দ্র শীল বলেন, মাস্ক ছাড়া আমরা কোনো ক্রেতাকেই সেবা দিচ্ছি না। আমাদের আউটলেটগুলোতে কর্মরত সব কর্মী স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো মেনে চলছেন।

করোনা পরবর্তী সময়ে বদলে গেছে রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের ধরনও। গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘুরে দেখা যায় যে, করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক দূর করতে এবং ক্রেতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ীরা খাবার ডেলিভারি এবং টেক অ্যাওয়ের ব্যবস্থা করেছেন। যেহেতু আগের মতো এখন রেস্টুরেন্টে বসে দীর্ঘ সময় ধরে খাবার খাওয়া এবং আড্ডা দেওয়ার সুযোগ নেই, এ জন্য অনেক রেস্টুরেন্ট অনলাইন ডেলিভারির মাধ্যমে ক্রেতার চাহিদা পূরণ করছে। সাবধানতা হিসেবে অনেক রেস্টুরেন্টেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রেখে বাড়তি আসবাব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খাবার ডেলিভারির সময় আগের চেয়ে রেস্টুরেন্টগুলো বাড়তি সতর্কতা মেনে চলছে। বাসায় খাবার সরবরাহের সময় খাবার প্যাকেটটিকে ভালোভাবে প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে দিচ্ছে। আবার ডেলিভারিম্যানরা হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ পরে পুরো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খাবার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। বেশ কিছু রেস্টুরেন্টে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা রক্ষী গ্রাহকের শরীরের তাপমাত্রা দেখে নিচ্ছেন। হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রেস্টুরেন্টের ভিতরেও একটু পরপরই জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর