শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২১

সুন্দরবনে খনন করা হচ্ছে ৮৮ পুকুর

মিটবে বন্যপ্রাণীর মিঠাপানির চাহিদা

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

সুন্দরবনে খনন করা হচ্ছে ৮৮ পুকুর

ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ সব প্রাণীর মিঠাপানির চাহিদা মেটাতে খনন ও পুনর্খনন করা হচ্ছে ৮৮টি পুকুর। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুবার সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত লবণাক্ত বনভূমিতে ৭০টি পুকুরে পাকা ঘাটও নির্মাণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বন্যপ্রাণীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সুন্দরবনে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বনজীবী ও পর্যটকদেরও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাবে এসব পুকুর। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়ানে পুকুর খনন ও পুনর্খননে ব্যয় হচ্ছে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে এমন এলাকাগুলোয় এসব পুকুর খনন ও পুনর্খননের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হলে প্রাণ বাঁচাতে বন্যপ্রাণীগুলোকে আর লবণাক্ত পানি পান করতে হবে না।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের মধ্যে থাকা পুকুরগুলো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণীগুলো সুপেয় পানি সংকটের মধ্যে ছিল। এ অবস্থায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে খনন ও পুনর্খনন করা হচ্ছে ৮৮টি পুকুর। ৩০টি পুকুরের পাকা ঘাটও নির্মাণ করা হবে। এসব পুকুরের মধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলায় দুটি ও বগীতে নতুন করে তিনটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। এই রেঞ্জের ২৪টি পুকুর পুনর্খননের মধ্যে কচিখালী অভয়ারণ্যে চারটি, কটকা অভয়ারণ্যে চারটি, দুবলা এলাকায় তিনটি, শরণখোলা রেঞ্জ সদরে দুটি, দাশেরভারানীতে দুটি। এ ছাড়া একটি করে পুকুর পুনর্খনন করা হচ্ছে ডুমুরিয়া, চরখালী, তেরাবেকা, চান্দেশ্বর, শাপলা, ভোলা, শেলারচর, কোকিলমুনি ও সুপতিতে। চাঁপাই রেঞ্জে পুকুর পুনর্খনন করা হচ্ছে ২৬টি পুকুরের মধ্যে রয়েছে ধানসাগরে তিনটি, গুলিশাখালীতে দুটি, আমুরবুনিয়ায় দুটি। একটি করে পুকুর পুনর্খনন করা হচ্ছে চাঁদপাই, ঢাংমারী, লাউডোপ, জোংড়া, ঘাগড়ামারী, নাংলী, হরিণটানা, কলমতেজী, তাম্বুলবুনিয়া, জিউধরা, বরইতলা, কাটাখালী, শুয়ারমারা, মরাপশুর, বৈদ্যমারী, আন্ধারমানিক, হারবাড়িয়া, নন্দবালা ও চরাপুটিয়া। এ ছাড়া পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে একটি নতুন পুকুর খনন ও ৩৪টি পুকুর পুনর্খনন এবং ৩০টি পুকুরের পাকা ঘাট নির্মাণ করা হবে। এসব পুকুর খনন ও পুনর্খননের কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে এমন এলাকাগুলোয় এসব পুকুর খনন ও পুনর্খননের কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে।


আপনার মন্তব্য