শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩১

বার্ড ফ্লু অ্যালার্ট, নিষেধাজ্ঞা আসছে মুরগি আমদানিতে

সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের সুপারিশ

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

ভারতসহ কয়েকটি দেশে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত ও স্থল বন্দরগুলোতে কড়াকড়ি আরোপের সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো বাংলাদেশের একটি বিশেষ সংস্থার চিঠিতে এ ধরনের সুপারিশ করার পর এখন পোলট্রিজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে আজকালের মধ্যে এসআরও জারি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বার্ড-ফ্লু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে যে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে সীমান্তে কড়াকড়ি ছাড়াও, সংক্রমণ রোধে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক প্রতিরোধে অগ্রিম সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংক্রমিত দেশগুলোর পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ডিম ও মুরগি আমদানি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বর্তমান আমদানি নীতিতে। অনুমোদন ছাড়া এগুলো আমদানি করা যায় না। এরপরও বার্ড-ফ্লু সংক্রমণ প্রতিরোধে পোলট্রিজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমদানি নীতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসআরও জারি করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ আজিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, পার্শ্ববর্তী দেশের কয়েকটি রাজ্যে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের বিষয়টি তারা বেশ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

পোলট্রিজাত পণ্য আমদানির বিষয়ে যাতে সীমান্তে ও স্থলবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতে তারা জরুরি বৈঠকে বসছেন আজ সোমবার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের খামারিরা মূলত এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিড আমদানি করে থাকেন। সে কারণে পোলট্রিজাত পণ্য হিসেবে এক দিনের মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিড আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হতে পারে। অধিদফতরের পরিচালক জানান, প্রাথমিকভাবে যে দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেই দেশ থেকে পোলট্রিজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সব দেশ থেকেই আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে, ভারতে করোনা মহামারী চলাকালীন কয়েকটি রাজ্যে বার্ড-ফ্লুর সংক্রমণ উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে কেরালা, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ হরিয়ানা ও রাজস্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। উল্লিখিত প্রদেশগুলোতে এ পর্যন্ত ৫ লাখ হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ২ হাজারের অধিক পরিযায়ী পাখির মৃত্যু হয়েছে। হিমাচল প্রদেশে বার্ড-ফ্লু রুখতে ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মুরগি, মুরগির ডিম এবং মাছ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কেরালা সরকার বার্ড-ফ্লুকে ‘রাজ্যের বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে এখনো বার্ড-ফ্লুর সংক্রমণ ছড়ায়নি। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতে ফ্লু ছড়িয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে। ডা. শেখ আজিজুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস এবং বার্ড-ফ্লুর ভাইরাসটি একই পরিবারের। কোনোভাবে যদি এই দুটি ভাইরাসের মধ্যে ক্রসকানেকশন ঘটে একটি নতুন ভাইরাসের জন্ম নেয় তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। এ কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বেশি সতর্ক থাকা উচিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর