শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪১

পুলিশ পাহারায় মদের ব্যবসা

মাহবুব মমতাজী

তখন বেলা পৌনে ৩টা। পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের ২৪ নম্বর আর এম দাস রোডের চিত্রটি ছিল অন্য এলাকার মতোই স্বাভাবিক। তবে একটু ভিন্নতা ছিল। এখানে শুধু চেনা মানুষের আনাগোনাই বেশি। অপরিচিত কাউকে দেখলেই নানা প্রশ্ন করা শুরু করেন রোডের মাথায় থাকা চা দোকানিসহ কয়েকজন। সাদা পোশাকে পুলিশও এসে জেরা করা শুরু করেন। এ ঘটনা গতকাল এবং গত ৩১ জানুয়ারির। ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে গতকাল জানা গেছে, আসলে ওই রোডটির আরেকটি নাম আছে। সেটি হলো মদের গলি। কেউ কেউ গিয়ে ঘরে ঢুকে মদ পান করছেন, আবার কেউ কেউ ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানকার দৃশ্য দেখে মনে হয় যে- অনেকটা পুলিশ পাহারায় চলে মদের ব্যবসা।

ওই গলিতে থাকা কয়েকজন ভাঙাড়ি দোকানি ও ছাপাখানার শ্রমিক জানান, এখানে একটাই মদের দোকান। তবে এটার লাইসেন্স আছে। এটা সবাই জানে। পুলিশের লোকজনও এখানে এসে ঘুরে যায়। মদের দোকানটি স্থানীয়দের কাছে টনির ঘর নামে পরিচিত। তার সামনেই চা, বিস্কুট, সিগারেট এবং চিপসের ভ্রাম্যমাণ একটি দোকান আছে। ওই দোকানে দাঁড়িয়ে চা পান করা অবস্থায় দোকানদার এ প্রতিবেদককে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার এখানে কাজ কী?’ 

মিনিট দুয়েক পর ওই দোকানি মদের দোকানের ম্যানেজার মিন্টুর কাছে গিয়ে কিছু একটা বলেন। এরপর মদের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোশাকে ছুটে আসেন সূত্রাপুর থানার এসআই মোহাম্মদ হাফিজুল্লা ও নুরুজ্জামান। হাফিজুল্লা এ প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভাই এখানে কেন? কোনো ঝামেলা? এটা তো মদের গলি জানেন তো। কোনো সমস্যা হলে বলেন।’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মদের দোকানের লোকজন আপনাকে অপরিচিত হিসেবে দেখে আমাদের খবর দিয়েছে বলেই আসছি। তাছাড়া এখানে আমার ডিউটি চলে। আর এখানে এই এলাকার মানুষই মদ খাইতে আসে। বাইরের কেউ আসে না।’ ডিউটিরত অবস্থায় সাদা পোশাকে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লাঞ্চ টাইম তাই পোশাক খুলে রাখছি।’

এই হাফিজুল্লা ও নুরুজ্জামান ছাড়াও সূত্রাপুর থানার প্রায় প্রত্যেকে রোটেশন অনুযায়ী ওই মদের গলিতে ডিউটি করা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ওই মদের দোকানের লাইসেন্সের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (বোর্ড) মেহেদী হাসান বলেন, ‘সূত্রাপুরে একটি লাইসেন্স করা বাংলা মদের দোকান আছে। তবে সেটির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু লাইসেন্স করা মদের দোকানের সামনে পুলিশের কোনো কাজ নেই।’ র‌্যাব-১০ এর উপ-অধিনায়ক মেজর শাহরিয়ার জিয়াউর রহমান জানান, ‘যদি লাইসেন্স থাকে তাহলে সেখানেই বসে মদ খেতে পারবে। কিন্তু নিয়ে যেতে পারবে না।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান। মদের দোকানের সামনে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে সেখানে পুলিশ যেতেই পারে। কিন্তু সার্বক্ষণিক সেখানে পুলিশ থাকার কথা নয়।’ অভিযোগ রয়েছে, ওই থানার অনেক পুলিশ সদস্যের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ থাকে। জানা গেছে, এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ জুন সূত্রাপুরের ২৪ নম্বর আর এম দাস রোডের ওই মদের গলিতে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয় র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বাংলা মদের ওই ঘর থেকে ৮৮ লিটার মদও জব্দ করা হয়। ওই সময় সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর