শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:১৬

মেগা প্রকল্পে বদলে যাবে চট্টগ্রাম

কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

মেগা প্রকল্পে বদলে যাবে চট্টগ্রাম

সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীর পথে এগোচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে বন্দরনগরীর সার্বিক চিত্র। প্রকল্পগুলো পুরোদমে চালু হলে আমূল পরিবর্তন আসবে চট্টগ্রাম তথা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায়। এখানে কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের। একই সঙ্গে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো পুরোদমে চালু হলে আরও বাণিজ্যবান্ধব হবে চট্টগ্রাম। কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের। সবমিলিয়ে বাণিজ্যিক রাজধানীর পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে চট্টগ্রাম।’ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সরকার চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী করতে বদ্ধপরিকর। তাই চট্টগ্রাম ঘিরে বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।’

জানা যায়, চীনের সাংহাইয়ের আদলে চট্টগ্রাম নগরীকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনে’ পরিণত করতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারা উপজেলাকে একই সুতায় যুক্ত করবে এ টানেল। বাংলাদেশ সরকার ও চায়নিজ এক্সিম ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। এটি পুরোদমে চালু হলে প্রতি বছর প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে। এতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে  শিল্প-কারখানা ও পর্যটন শিল্পে। মিরসরাইয়ের একসময়ের বিরান ভূমিতে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’। প্রায় ৩১ হাজার একর ভূমিতে গড়ে ওঠা শিল্পনগরীতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ নিয়ে আসছে। প্রকল্পটি পুরো বাস্তবায়িত হলে ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সরাসরি রেলযোগাযোগ স্থাপনের জন্য তৈরি হচ্ছে রেললাইন। বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগামী বছর এ রুটে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন চলাচলের উপযুক্ত হলে তা হবে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার জন্য যুগান্তকারী প্রকল্পগুলোর একটি। এতে করে ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের যাতায়াত খুবই সহজ হবে। চট্টগ্রামের হালিশহর আনন্দবাজার থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমণিঘাট পর্যন্ত সাগরের বুকে জেগে ওঠা ভূমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে বে-টার্মিনাল। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে এখনকার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি সক্ষমতা বাড়বে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে। দিনরাত জেটিতে আসা-যাওয়া করতে পারবে মাদার ভ্যাসেল। এতে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে। ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পিসিটি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা। ৩২ একর জায়গায় নির্মাণাধীন পিসিটি চালু হলে বছরে ৪ লক্ষাধিক টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। এটিই হবে দেশের প্রথম মরিচা-প্রতিরোধী ও লবণাক্ততা-সহনীয় লোহা দিয়ে তৈরি টার্মিনাল। নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ চলছে দ্রুততার সঙ্গেই। এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের অন্য মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে আনোয়ারায় ১৬ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক অঞ্চল, আড়াই হাজার কোটি টাকার আউটার রিং রোড প্রকল্প, ৩২০ কোটি টাকার ডিটি-বায়েজিদ সংযোগ সড়ক, ২৮০ কোটি টাকার নদীতীর সংরক্ষণ, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারে ৭১৬ কোটি টাকার প্রকল্প, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ অন্যতম।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর