শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৫

বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে ৯৪ ভাগ রোগী

আইসিইউর জন্য হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে মানুষ, করোনা টেস্টের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা

জয়শ্রী ভাদুড়ী

বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে ৯৪ ভাগ রোগী
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গতকাল করোনা টেস্টের দীর্ঘ লাইন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দেশে এখন করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ছেন ১ লাখ ২ হাজার ১২৮ জন। এর মধ্যে হাসপাতালের সাধারণ শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ হাজার ১৪২ জন। আক্রান্তের মধ্যে ৯৫ হাজার ৯৮৬ জন অর্থাৎ ৯৪ ভাগ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মহামারীর শুরুর দিকে বলেছিল, আক্রান্তের ২০ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার হতে পারে। আক্রান্তদের আইসিইউ প্রয়োজন হলেই বাধে বিপত্তি। হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে সিট মিলছে না আইসিইউর। বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছেন করোনা আক্রান্ত। হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে আইসিইউর একটি সিটের জন্য ঘুরতে রাত পেরিয়ে ভোর হচ্ছে। পথেই নিভে যাচ্ছে জীবনপ্রদীপ। অসহায় প্রিয়জনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে ভোরের নির্মল বাতাস। গতকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন ৬৩ জন, বাড়িতে মারা গেছেন পাঁচজন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে একজনকে। করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ারা টেলিমেডিসিন ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরসূত্রে জানা যায়, গতকাল ৩২ হাজার ৯৫৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ২৮ জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত বাড়ছে। আক্রান্তের অধিকাংশ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিলেও বাকিদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গতকাল ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে মাত্র একটি আইসিইউ ফাঁকা ছিল। সরকারি হাসপাতালে ১৩২টি আইসিইউর মধ্যে ১৩১টিতে রোগী ভর্তি ছিল। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মাত্র একটি আইসিইউ ফাঁকা ছিল। রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালের ৩১৩টি আইসিইউর মধ্যে ৩০৬টিতে রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে একটি ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ছয়টি আইসিইউ ফাঁকা ছিল। করোনা আক্রান্তদের জন্য রাজধানীতে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র আটটি আইসিইউ ফাঁকা ছিল। আইসিইউ যেন সোনার হরিণ। রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা আছে ২ হাজার ৬০৮টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ১৬২টিতে। বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের জন্য সাধারণ শয্যা আছে ১ হাজার ৫৬৮টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ১ হাজার ৩৮৭টিতে। রাজধানীতে ৬১৩টি সাধারণ শয্যা শূন্য আছে। চট্টগ্রাম মহানগরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সাধারণ শয্যা আছে ৬৫১টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ৪০০টিতে। আইসিইউর ৩৩টি শয্যার মধ্যে ফাঁকা আছে ১৯টি। বেসরকারি ২৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ফাঁকা আছে ১০টি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর গতকাল দেশে মোট আক্রান্ত, সুস্থ ও মৃতের যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ১ লাখ ২ হাজার ১২৮ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৬ জন, মারা গেছেন ৯ হাজার ৮৯১ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ হাজার ১৪২ জন। বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৫ হাজার ৯৮৬ জন। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, দুটি কারণে টেলিমেডিসিন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ সেবা নেওয়া সম্ভব হয় বলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। দ্বিতীয়ত এ সেবায় সময় ও অর্থ কম ব্যয় হয়। তবে এটি সরাসরি চিকিৎসার সমকক্ষ নয়। সরকারের কল সেন্টার ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ ২০১৫ সাল থেকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে আসছে। সেন্টারটি পরিচালনা করে সিনেসিস আইটি লিমিটেড নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ১৫ জুন স্বাস্থ্য বাতায়নের অধীন ‘কভিড-১৯ টেলি হেলথ সেন্টার’ চালু করে তারা। কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিদিন শনাক্ত হওয়াদের নাম ও মুঠোফোন নম্বর তারা পান স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ‘করোনার সঙ্গে আমাদের লড়াই চলছে এক বছরের বেশি সময় ধরে। আমরা সবাই জানি করণীয় কী। ইতিমধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব করোনা আক্রান্তের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অধিকাংশই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন। শুধু যাদের জটিলতা আছে কিংবা দেখা দিয়েছে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বাড়িতে থাকাদের নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে। জরুরি প্রয়োজনে তাদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’ এদিকে করোনার নমুনা দিতে হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়। দীর্ঘ সময় উপসর্গ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও নমুনা দিতে পারছেন না অনেকে। তাই ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। অনেকে নমুনা জমা দিয়ে তিন দিনেও পাচ্ছেন না রিপোর্ট। গতকাল মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বাইরে দেখা গেছে নমুনা দিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন।

এই বিভাগের আরও খবর