শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২১ ০০:০০

অষ্টম কলাম

সাগরে লঘুচাপ বন্দরে ১ নম্বর সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাগরে লঘুচাপ বন্দরে ১ নম্বর সংকেত
Google News

বঙ্গোপসাগরে সেই লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এটি পরবর্তীতে নিম্নচাপ ও আরও পরে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এ পরিণত হতে পারে। দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করার পাশাপাশি তাদের আজকের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ উপকূলে আগামী বুধবার ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আঘাত হানতে পারে। এটি সুপার সাইক্লোন হয়ে উঠতে পারে। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার মধ্যে আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণিঝড়ের অঙ্কুরোদ্গমের খবর দেন আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ইয়াস’। গতকাল বেলা ২টার পর সেই লঘুচাপটি সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেছেন, শনিবার বেলা ২টার পরে লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলকায়। এটি পরবর্তীতে  ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং ২৬ মে নাগাদ ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সেই সঙ্গে সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। নৌকা ও ট্রলারগুলোকে বলা হয়েছে আজকের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই লঘুচাপ আজ রবিবার সকালেই নিম্নচাপে রূপ নেবে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ?রূপ নিতে পারে। সোমবার নিম্নচাপ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটারে উঠতে পারে। আলীপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ কোথায় আছড়ে পড়বে, এখনো অস্পষ্ট। তবে পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৬ মে সন্ধ্যার দিকে ‘ইয়াস’ পশ্চিমবঙ্গ, সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা এবং বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের আগে বাংলাদেশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বিকালে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটিতে ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও পাবনা জেলাসহ ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় লক্ষ্য ‘জিরো ডেথ’ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, ‘বিগত দিনগুলোতে আমরা সুপার সাইক্লোন ফণী, বুলবুল, আম্ফান মোকাবিলা করেছি। সবাইকে নিয়ে একযোগে কাজ করেছি। এবারও আমরা একসঙ্গেই কাজ করব। উপকূলীয় এলাকা থেকে শতভাগ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে এনে আমরা এবার মৃতের সংখ্যা শূন্যের ঘরে নামিয়ে আনতে চাই। আমাদের লক্ষ্য জিরো ডেথ।’ গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি কর্মসূচির পলিসি কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী বা বুলবুল মোকাবিলায় আমরা যে পরিমাণ আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহার করেছিলাম, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে আমরা তার তিনগুণ বেশি ব্যবহার করেছি। প্রায় ১৪ হাজার ৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। এবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে তিনগুণ বেশি আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহার করা হবে। সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শুক্রবার আমরা জানতে পারি একটি লঘুচাপ তৈরি হবে। সেজন্য শনিবার এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। রবিবার পরিস্থিতি বুঝে দুই নম্বর সতর্কতা দেওয়া হতে পারে। এরপর তা বেড়ে চার নম্বর হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর