শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জুন, ২০২১ ২৩:২৪

কারসাজির সিন্ডিকেট ফের সক্রিয়

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

কারসাজির সিন্ডিকেট ফের সক্রিয়
Google News

কোরবানির বাজার সামনে রেখে মাঠে নেমেছে মসলার বাজার কারসাজির সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে হু হু করে বাড়ছে কোরবানির অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য মসলার দাম। গত পনেরো দিনের ব্যবধানে রকম ভেদে মসলার দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। অভিযোগ রয়েছে মসলার বাজার অস্থির করার নেপথ্যে রয়েছে দেশের অন্যতম পাইকার বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ১২ রাঘববোয়াল। তাদের বাজার কারসাজি এবং তৃতীয় দেশ হয়ে মসলা আমদানি কৌশল অবলম্বনের কারণেই লাগামহীন হয়ে পড়েছে মসলার বাজার। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘কোরবানিকে সামনে রেখে মসলার বাজার কারসাজি কোনো ভাবেই কাম্য নয়। চেম্বারের পক্ষ থেকে বিষয়টা জোরালো মনিটরিং করা হবে। একই ভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো মনিটরিংয়ের দাবি করছি।’ চাক্তাই খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মসলা আমদানিতেও কারসাজিকারীরা ভয়ংকর কৌশল অবলম্বন করছে। বাংলাদেশে আসা সিংহভাগ মসলা ভারত, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, চীন, গুয়েতেমালা, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারের হলেও তা সরাসরি বাংলাদেশে আসে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মসলার চালান। কারসাজিকারী আমদানিকারকদের প্রায় সবার এ দুই দেশে নিজস্ব অফিস রয়েছে। রপ্তানিকারক দেশ থেকে সরাসরি ওই দুই দেশে নেওয়া হয় মসলার চালান। এরপর তৃতীয় দেশের অফিসের মাধ্যমে বাড়তি মূল্য দেখিয়ে দেশে প্রবেশ করানো হয় মসলার চালান। এতে দেশে প্রবেশের আগেই বেড়ে যায় মসলার দাম।

জানা যায়, মসলার বাজার কারসাজির নেপথ্যে রয়েছে বাঙালি-অবাঙালিদের সমন্বয়ের ১২ জনের সিন্ডিকেট। মূলত তারাই নিয়ন্ত্রণ করে দেশের মসলার বাজার। তাদের ইশারায় অস্থির হয় মসলার বাজার। সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন খাতুনগঞ্জের বণিক সমিতির একজন প্রভাবশালী নেতা। এ ছাড়া মসলা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে রয়েছেন কমপক্ষে ১২ আমদানিকারক। এ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অস্থির দেশের মসলার বাজার। গত ১৫ দিনে কেজি প্রতি মসলার দাম বেড়েছে ৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে চাক্তাই খাতুনগঞ্জে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে রকম ভেদে ৩২০ টাকা থেকে ৩৭০ টাকা কেজি। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও তা ছিল ২৫০ টাকা থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে। লবঙ্গের দাম ৪০০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা। এলাচ বিক্রি হচ্ছে রকম ভেদে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা কেজি। মাত্র দুই তিন সপ্তাহ আগে যা ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। জিরার দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকা, গোল মরিচ ৫৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৮৫ টাকা, ধনিয়া কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। একই ভাবে রসুন, পোস্তা দানা, তেজপাতা, মরিচসহ অন্যান্য মসলার বাজার ঊর্ধ্বগতি।