শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনামুক্তির প্রার্থনায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনামুক্তির প্রার্থনায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

কোরবানির ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারী করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবারও বাংলাদেশের মুসলমানরা গত বুধবার উদযাপন করেছেন পবিত্র ঈদুল আজহা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ প্রতিটি ঈদ জামাতে আল্লাহর দরবারে করোনা মহামারী থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনার মাধ্যমে দেশব্যাপী উদযাপিত হয় মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ উৎসব।

করোনা মহামারীর কারণে এবারও রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের কোনো ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। একই কারণে ২৭০ বছরের পুরনো দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে এ বছরও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত ঈদুল আজহার বিশেষ ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবার মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

গত বুধবার রাজধানীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। এখানে একে একে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বেলা পৌনে ১১টায়। মসজিদে প্রবেশ পথে বসানো হয়েছিল জীবাণুনাশক ¯েপ্র বুথ। প্রধান জামাতে অধিকাংশ মুসল্লি স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরলেও মসজিদের উত্তর পাশে ভিড়ের কারণে কিছু মুসল্লিকে স্বাভাবিক নিয়মে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে  নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। নামাজ শেষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়ে নিজেদের গুনাহর জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চেয়ে মুসল্লিরা অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় করোনা মহামারীসহ সব ধরনের বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির জন্যও আল্লাহর দরবারে সাহায্য চেয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে প্রার্থনা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ সাহানে মুখে মাস্ক পরে কয়েকজন তরুণকে কোলাকুলি করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে।

এ বছর আগে থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। সে অনুযায়ী মসজিদে মসজিদে দূরত্ব মেনে মুখেই মাস্ক পরে নামাজে অংশ নিয়েছেন মুসল্লিরা। নামাজের পর কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকলেও অনেককে হাতে হাত মিলিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেতে দেখা গেছে। তবে করোনা নিয়ে উৎকণ্ঠা আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাপক মানুষের মাঝে ঈদের তেমন একটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছিল।

ঈদের নামাজ থেকে ফিরে এসে সামর্থ্যবান মুসল্লিরা মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানি করেছেন। এরপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোরবানির গোস্ত আত্মীয়-স্বজন ও গরিব দুস্থদের মাঝে বিলি-বণ্টন করেছেন। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী- হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি নিজ পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তাঁর আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহান রব্বুল আলামিন বেহেশত থেকে ফেরেশতার মাধ্যমে দুম্বা পাঠিয়ে ইবরাহিম (আ.)-এর কোরবানি বা আত্মত্যাগের ইচ্ছাকে কবুল করে নেন। এ জন্য তিনি পেয়েছেন মুসলিম বিশ্বের জাতির পিতার মর্যাদা। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত অনুসারেই এ দিন পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে।

বিভাগীয় শহরে জামাত : চট্টগ্রাম মহানগরীতে মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত হয় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে সকাল পৌনে ৮টায়। সিলেট বিভাগীয় শহরে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে সকাল ৮টায়। রাজশাহীতে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায়। খুলনার প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় টাউন জামে মসজিদে।

ঈদের মাঠে ১৪৪ ধারা জারি : ঈদের নামাজ আদায় নিয়ে ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের লোকজনের মাঝে বিরোধের কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় স্থানীয় ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার দিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।