বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেই রাস্তায় বাড়ছে মানুষ

ষষ্ঠ দিনে ঢাকায় গ্রেফতার ৫৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেই রাস্তায় বাড়ছে মানুষ

কঠোর লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল আগের দিনগুলোর চেয়ে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগের দিনের চেয়ে বেশি তৎপর দেখা গেলেও দোকানি, ক্রেতা, পথচারী অনেকেরই মাস্ক মুখে থাকছে না। বিভিন্ন রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম দেখা গেছে। নানা ছুতোয় বের হওয়া মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তল্লাশি চৌকিতে, মাস্ক না পরায় করা হচ্ছে জরিমানা। বের হওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, মাস্ক না পরা, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার দায়ে অনেকে জরিমানা গুনেছেন। আবার অনেকে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ছাড় পাচ্ছেন। বিধিনিষেধ মানাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল ও মাইকিং করতে দেখা গেছে।

গত পাঁচ দিনের চেয়ে গতকাল রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বেড়েছে মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল। আর পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রামপুরা ব্রিজে অবস্থান করে দেখা গেছে, গড়ে প্রতি মিনিটে ৪০টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১৬টি পণ্যবাহী যানবাহন, মোটরসাইকেল ৪০ থেকে ৫০টি ও অসংখ্য রিকশা চলাচল করছে। পাশাপাশি হেঁটে চলাচল করছে অসংখ্য মানুষ। অধিকাংশের মুখেই মাস্ক ছিল না। গতকাল সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছেন, আবার কেউ কাঁচাবাজারে ঘোরাঘুরি করে চলে যাচ্ছেন। আগের দিনের তুলনায় এদিন কাঁচাবাজার, মাছ ও মুদি দোকানে লোকজনের চলাচল বেড়েছে। প্রধান সড়কে মানুষের সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যাও বেশি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অধিকাংশই জরুরি দরকার ছাড়া বের হয়েছেন এবং জানতে চাইলে নানা অজুহাত দিচ্ছেন। তাই তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। অনেকেরই মাস্ক থুতনিতে, তাদেরও জরিমানা করা হয়েছে। বিজয়নগর, ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, শাহজাহানপুর, আরামবাগ, ডিআইটি এভিনিউ ঘুরে দেখা গেছে, বড় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অলিগলিতে দোকান খোলা। আরামবাগ, শাহজাহানপুর, পীরজঙ্গি মাজারের গলিতে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে মানুষজনের চলাচল বেশি। রাজধানীর আদাবর, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকায় আগের চেয়ে মানুষের চলাচল বেশি দেখা গেছে বুধবার। বেড়েছে রিকশার সংখ্যাও। দোকানপাটের শাটার অর্ধেক খোলা রেখে বেচাকেনা চলছে। বিভিন্ন গলিতে আগের চেয়ে ফেরিওয়ালাদের আনাগোনা বেড়েছে। মিরপুরের রাস্তায় মানুষের চলাচল কম থাকলেও যারা বাইরে বের হয়েছেন, তাদের অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। লকডাউনে বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও পল্লবী এলাকায় স্যানিটারি পণ্য, খেলনার দোকান, কাপড়ের দোকান, ইলেকট্রিক পণ্যের দোকান খোলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে শাটার অর্ধেক বন্ধ রেখে এসব দোকানে কেনাবেচা চলছে। রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ ভ্যানেও কাপড়, জুতা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ষষ্ঠ দিনে ঢাকায় গ্রেফতার ৫৬২ : করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে ঈদের ছুটির পর শুরু হওয়া ‘কঠোর’ লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে ঢাকায় ‘অপ্রয়োজনে’ বের হওয়ায় ৫৬২ জনকে গ্রেফতার হতে হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গতকাল জানিয়েছে, এ দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৮ জনকে করা হয়েছে মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৪৮৯টি গাড়িকে মোট ১১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। পুলিশের তৎপরতার মধ্যেও বুধবার আগের পাঁচ দিনের তুলনায় মানুষের ও গাড়ি চলাচল বেশি দেখা গেছে রাজধানীতে। ঈদের পর গত ২৩ জুলাই শুরু হওয়া ১৪ দিনের লকডাউনের ছয় দিনে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৫৬। এই চলমান লকডাউন চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে সারা দেশে র‌্যাবের শতাধিক টহল ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিমও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ ছাড়া র‌্যাব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধকরণে রাজধানীতে বিনামূল্যে দেড় হাজারের বেশি মাস্ক বিতরণ এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছে।