বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

দখল-দূষণে মরছে বংশী

দখলদারদের তালিকা হয় উচ্ছেদ হয় না

নাজমুল হুদা, সাভার

দখল-দূষণে মরছে বংশী

সাভারের খরস্রোতা বংশী নদী দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীর দুই পাশের তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। নদীর দুই তীর একের পর এক দখল হলেও প্রশাসন দখলদারদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। শুধু দখল নয়, শত শত কলকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব দূষণ ও দখল রোধে স্থানীয় নদী রক্ষা কমিটি মাঝে মধ্যে মিটিং, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও দখল প্রক্রিয়া না থেমে বরং বেড়েই চলেছে। সরকারিভাবে নদী দখলদারদের ফের নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করে নোটিস দেওয়া হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তারা। নদীর তীর ঘেঁষে কোথাও টিনের ঘর, আবার কোথাও কংক্রিটের ঢালাই আর ইটের গাঁথুনি দিয়ে দোকানপাট নির্মাণ করছে দখলদাররা। কেবল দখল নয়, শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে নদীটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাভার থানা ঘাট থেকে নামাবাজার, বাঁশপট্টি পর্যন্ত সাভার পৌরসভার বর্জ্য ফেলে ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বড় বড় দালান। বংশী নদীর ওপর নির্মিত সাভার-ধামরাই সেতুর দুই পাশ দখল করে রেখেছেন প্রভাবশালীরা। নয়ারহাট এলাকায়ও নদী দখলের ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়ে। নদীর পূর্ব-পশ্চিম দুই পাশের তীর ঘেঁষে ব্যবসায়ীরা মাটি দিয়ে নদী ভরাট করে বালুর ব্যবসা করছেন। এসব দখল নিয়ে পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করলেও কার্যত কোনো সুফল মিলছে না। পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা থেকে বিরামহীনভাবে নদীতে নির্গত বর্জ্য বিষিয়ে তুলেছে পরিবেশ। ফলে প্রতিনিয়ত পানিবাহিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। সাভারের নয়ারহাট থেকে শহীদ রফিক সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় পাল্লা দিয়ে দখল করে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে প্রমত্তা বংশী। দিনে দিনে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদী দখল ও দূষণের হার। সাভার নামাবাজার এলাকায় নদীর তীর দখল করে কয়েক হাজার পাকা ও আধা-পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। পানিতে ইট, খোয়া আর বালু ফেলে ডাল ভাঙানোর কারখানা নির্মাণ করা হয়েছে। সাভার থানা সংলগ্ন নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রায় ৫ একর সরকারি জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন এলাকা। ভূমি অফিসের সর্বশেষ হালনাগাদকৃত আবার নতুন তালিকায় নদী দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সাভার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা, জন প্রতিনিধিদেরও নাম রয়েছে। সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রভাবশালীরা সাভারের নদী-নালা ও খাল দখল করে চলেছে। অবিলম্বে এসব উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা না হলে দখল বন্ধ হবে না। সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম শামসুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দখলের কারণে সাভারের অন্তত ১২টি খাল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বড় বড় ভবন। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সাভার উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় সুপেয় পানির অভাব দেখা দেবে। সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নদীতীরের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অচিরেই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নদীদূষণ রোধে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। সাভারে ট্যানারি পানি নদীতে ফেলার কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর