শিরোনাম
রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা

সমাজে অসহিষ্ণুতা অস্থির করে তুলছে কিশোরদের

ডা. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী

সমাজে অসহিষ্ণুতা অস্থির করে তুলছে কিশোরদের

নিঃসন্দেহে কিশোর অপরাধ এখন ভয়ংকর অপরাধ। কিছুদিন আগেও মনে হতো যে কিশোররা ভয়াবহভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু কিছু কিশোর গ্যাং এখন খুনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি খুব বেশি আগের নয়। বিচ্ছিন্নভাবে সমাজে কিশোররা অপরাধ করে আসছিল। ইদানীং যে কিশোররা অপরাধে জড়াচ্ছে তা খুব বড় ধরনের অপরাধ। সমাজে এখন চরম অসহিষ্ণুতা কাজ করছে। আর এ অবস্থা কিশোরদের খুব অস্থির করে তুলেছে। পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় নানা কারণে কিশোররা অপরাধে জড়াতে পারে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন।

এই চিকিৎসক বলেন, শিশু-কিশোরদের প্রথম পাঠশালা হচ্ছে তাদের পরিবার। পরিবারের পরিবেশ যেমন হবে, সেই পরিবেশই তাকে বড় হতে সাহায্য করবে। কিন্তু পারিবারিক ঝামেলার কারণে শিশুদের এখন মূল্যবোধ শেখানো যাচ্ছে না। পারিবারিক নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে একটি শিশু যে ভালোভাবে বেড়ে উঠবে তা কমে যাচ্ছে। আবার যৌথ পরিবারের মধ্যে একটি শিশু যে অনায়াসে বড় হতো, তা এখন আর নেই। শিশুরা এখন একাকিত্বে ভোগে। অভিভাবকরা কর্মজীবী হওয়ায় বাড়িতে শিশু একা থাকে। আর তাদের একাকিত্ব কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন হয়। ফলে পারিবারিক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি কিশোরের ওপর যখন মানসিক চাপ তৈরি হয়, তা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। স্কুলে উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত    বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যায়। সেখানে একজনের হাতে দামি স্মার্টফোন দেখে যার নেই তার মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তখন বাবা-মার কাছে সেই কিশোরটি স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার চাপ দেয়। আর কিনে দিতে না পারলে ওই কিশোরের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। অনেকে এই হতাশা থেকে কীভাবে বের হতে হবে তা বুঝতে পারে না। তখন তারা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। এতে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। আবার সাম্প্রতিক কালে অনেক কিশোর-কিশোরীকে আত্মহত্যায় ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের বিপথগামী হওয়ার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন কারণ জড়িত।

তিনি বলেন, সমাজে একশ্রেণির মানুষ নানাভাবে অর্থশালী হচ্ছে। আবার সৎভাবে যারা চলছে তারা অভাব-অনটনে থাকছে। এই সামাজিক বৈষম্যও শিশুদের প্রভাবিত করছে। আবার শিশু-কিশোরদের ভুল পথে যাওয়ার জন্য অনেক সময় পৃষ্ঠপোষকতাও করা হচ্ছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবেগ দ্বারা চালিত হওয়ায় কিশোরদের ভুল পথে নিয়ে যাওয়া সহজ। মাদকাসক্তিও কিশোরদের অপরাধী হওয়ার পেছনে বড় কারণ। এর ফলে বাড়ি থেকে টাকা চুরি করা থেকে ছিনতাইসহ নানা রকম অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। এ বিষয়গুলো সামগ্রিকভাবে সবার ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচার ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। তবে সরকারের একার পক্ষে এ ধরনের অপরাধ দমন অসম্ভব। এ জন্য সব সামাজিক সংগঠনগুলোকে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে হবে।

সর্বশেষ খবর