শিরোনাম
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

কমিটি পেয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠছে রাবি ছাত্রলীগ

রায়হান ইসলাম, রাবি

কমিটি পেয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠছে রাবি ছাত্রলীগ

নতুন কমিটি পেয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগ। হলে আধিপত্য বিস্তার, হলকক্ষ ঘুরে ঘুরে সিট জরিপ এবং শিক্ষার্থীদের হুমকিধমকি দিয়ে সিট দখলের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগের এমন কর্মকান্ডকে পুরনো খোলসের নতুন রূপ বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। ইতোমধ্যে হলগুলোয় অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী উঠেছে। এ বিষয়ে ফের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৩ নভেম্বর নবাব আবদুল লতিফ হলে সিট দখল ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ঝামেলা বাধে। একপর্যায়ে দেশি অস্ত্রহাতে নেতা-কর্মীদের শোডাউন দিতে দেখা যায়। ২১ নভেম্বর শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিনহাজ ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি সিট দখলের অভিযোগ ওঠে। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিমেল ও নিকোল রায়ের সিট দখল করে সেই সিটে অন্যজনকে তোলেন মিনহাজ। সিট ছাড়তে রাজি না হওয়ায় গলাধাক্কা দেওয়ার কথাও জানান নিকোল। ২২ নভেম্বর শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছাত্রলীগ নেতা রনি অবৈধভাবে সিট দখলের নির্দেশ দেন দলের কর্মী শাহাবুদ্দিনকে। কিন্তু নির্দেশ পালন না করায় তাকে মারধর ও সিট ছাড়ার হুমকি দেন রনি ও সহযোগীরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের এই নেতারা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, হলে কে থাকবে, কে থাকবে না তা হল প্রশাসন দেখবে। ছাত্রলীগের কেউ এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হলসূত্রে জানা গেছে, শহীদ হবিবুর রহমান হলে ১৫, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ১২, মাদার বখস হলে ২৫, সোহরাওয়ার্দী হলে ১২৩, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ১৫, আমীর আলী হলে ৭, শাহ মখদুম হলে ২৫, লতিফ হলে ২৩, বঙ্গবন্ধু হলে ২০, মতিহার হলে ১০ ও শেরেবাংলা হলে ২৫টি সিটে অনাবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। যার অধিকাংশই ছাত্রলীগের দখলে। তবে একাডেমিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও কিছু সিট ধরে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। সিট ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে একাধিক হলে নোটিস দেওয়া হলেও তা মানছে না অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নতুন শিক্ষার্থীরা। সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হলে সিট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শতাধিক সিটের অধিকাংশ নেতাদের দখলে। নোটিস দিলেও নির্দেশ মানছেন না। ফলে অনেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং হলে অর্থনৈতিক ঘাটতি থাকছে। একই কথা বলছেন অন্যান্য হলের প্রাধ্যক্ষরা।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর