সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান (এম আর হাসান) রাষ্ট্রপতি বরাবরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সংবিধানের ৯৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি এ পদত্যাগপত্র দেন। সোমবার তার এ পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে রাষ্ট্রপতি বরাবরে পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল জানা গেছে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গতকাল (সোমবার) তিনি (বিচারপতি রেজাউল হাসান) পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দেন তিনি। বিধি অনুসারে পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার (বিচারপতি রেজাউল হাসান) বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম চলমান ছিল। কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদনটি দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক। ওই আবেদনে বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় পক্ষপাতমূলক আচরণসহ দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠাতে আর্জি জানানো হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রেজাউল হাসান গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আবেদন দেন এই বিচারপতি। বিচারপতি রেজাউল হাসানের লিখিত জবাবে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দুটি মামলার মধ্যে একটিতে আপিল বিভাগে আবেদন হয়। অন্যটিতে করা হয়নি। হাই কোর্টের আদেশের পর একটির ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে করা আবেদন সূত্রে ২০১৭ সালে আবেদনকারীর (মজিবুল হক) স্ত্রী প্রতিকার পান। মামলাটি হাই কোর্টে পুনঃশুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ২০১৭ থেকেই মামলাটি হাই কোর্টে শুনানির জন্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষ তা শুনানির কোনো পদক্ষেপ নেননি। শুনানি অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারপতি রেজাউল হাসান লিখিত জবাবে আরও উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে ২০১৭ সালেই তা করতে পারতেন অভিযোগকারী। এ অভিযোগটি চলে না। বিচারপতি রেজাউল হাসানের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে উল্লিখিত বিচারপতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কার্যধারা শুরু হয়নি।