যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাল সনদ ব্যবহার করেছে বলে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে একটি আন্তর্জাতিক যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের ভুয়া দাবির ক্ষেত্রে যেসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে, সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান কোয়ালিশন চকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আবেদন বিশ্লেষণ করে। এতে দেখা যায়, ভর্তি প্রস্তাব পাওয়া আবেদনকারীদের প্রায় ৫ শতাংশ তাদের আবেদনে উল্লেখ করা শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ফলাফলের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল ছিল না।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে জাল সনদ তৈরি করা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে যাওয়ায় এ ঝুঁকি আরও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়া, ঘানা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ আবেদনকারী জাল সনদ বা নথি জমা দিয়েছেন। ২০ শতাংশ ভুল ফলাফল উল্লেখ করেছেন অথবা কোনো শিক্ষাগত রেকর্ডই দিতে পারেননি। ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদনকারীদের বড় অংশ বিজনেস ও ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন।