শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০১

করোনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা হঠাৎ বাড়ছে ইতালি-কানাডায়

প্রতিদিন ডেস্ক

টিকা প্রয়োগের পর বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নেমে আসতে থাকলেও সম্প্রতি আবার কোনো কোনো দেশে তা বাড়তে শুরু করেছে। এ তালিকায় ব্রাজিল ও ভারতের নাম থাকলেও এখন ইতালি ও কানাডায়ও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে বিশ্বে মোট সংক্রমণও ১২ কোটির কাছাকাছি চলে এসেছে। সূত্র : রয়টার্স। জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত বিশ্বের করোনায় মোট সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৯৭ লাখ। প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে প্রায় ৫ লাখ করে। সে হিসাবে আজ সংক্রমণের সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৫৪ হাজার প্রায়। প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা প্রয়োগের পরও করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে মাস্কের ব্যবহার এবং অন্যান্য সতর্কতা কমিয়ে দেওয়া। মানুষ মনে করছিলেন, টিকা নেওয়ার কারণে এসব সতর্কতার আর প্রয়োজন নেই। এতে করে বিরূপ ফল ফলতে শুরু করেছে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস। সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও।

ইতালিতে ফের স্কুল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা : ইতালিতে ছয় সপ্তাহ ধরে আবারও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে। দেশটিতে এখন নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছেই। প্রতিদিন ২৫ হাজারেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। মারা যাচ্ছেন ৩ শতাধিক। এমন পরিস্থিতিতে করোনার নতুন ঢেউয়ের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। নতুন করে সংক্রমণ ঠেকাতে আগামীকাল থেকে দেশটিতে অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চলে স্কুল, রেস্টুরেন্ট ও দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। দেশটির পূর্বাঞ্চলে রেড জোন ঘোষণা করে বলা হয়েছে, এ অঞ্চল সপ্তাহে তিন দিন পুরোপুরি বন্ধ অর্থাৎ লকডাউনে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি নতুন করে দেওয়া এ বিধিনিষেধে বাচ্চাদের পড়াশোনা, দেশের অর্থনীতি এবং ইতালিয়ানদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের কঠোর পদক্ষেপের দিকে যেতে হয়েছে।

 

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর আগে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ রূপ দেখেছিল দেশটি। এরপর সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও দফায় দফায় তা আবার বাড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩২ লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির বেশির ভাগ অঞ্চলের হাসপাতাল এবং আইসিইউ ইউনিটে কোনো জায়গা নেই।

সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন বিধিনিষেধে বলা হয়েছে, দেশটির জনপ্রিয় শহর রোম ও মিলানসহ অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চলে আগামী সোমবার থেকে স্কুল, রেস্টুরেন্টসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এসব অঞ্চলে জরুরি কাজ, স্বাস্থ্য সমস্যা ছাড়া কাউকে বাইরে বের হতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব ইতালিকে ‘রেড জোন’ উল্লেখ করে আগামী ৩-৫ এপ্রিল লকডাউন রাখা হবে। যাতে করে সেখানে মানুষ অবকাশ যাপনে যেতে না পারেন।

কানাডায় সংক্রমণ বাড়ছে : কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২২ হাজার ৪০৪ জন। মাঝে সংক্রমণ হার কিছুটা কমলেও ফের তা বেড়েছে। নতুন ভ্যারিয়েন্টের করোনার সংক্রমণ দেশটির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া বিধিনিষেধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সত্ত্বেও নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট দেশটির সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বর্তমানে দেশটিতে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সীমান্তও বন্ধ রয়েছে। খবরে বলা হয়, কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশে প্রতি বছরই এ সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আর পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। কিন্তু এবার তা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটি এবার জাতীয় দিবস উপলক্ষে সব ধরনের আউটডোর অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন টরেন্টোর মেয়র জন টরি। নগরে রিপ্রোডাক্টিভ নম্বর বেড়ে ১ দশমিক ১ হয়েছে বলে জানিয়েছেন টরেন্টোর জনস্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. এইলিন দ্য ভিলা। যদিও গত সপ্তাহে এটা ছিল দশমিক শূন্য ৮। ডা. এইলিন রিপ্রোডাক্টিভ নম্বর হঠাৎ বেড়ে যাওয়াকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড ভারতে : চলতি বছর এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে ভারতে। দেশটিতে গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৮৮২ জন। গত ৮৩ দিনের মধ্যে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি মানুষ। এক দিন আগের চেয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৭ শতাংশ বেশি। এক দিন আগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ২৮৫। খবরে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ভারতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ২৪ ঘণ্টায় এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। বর্তমানে ভারতে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২ হাজার ২২। করোনা সংক্রমণ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। এরপরেই সংক্রমণে এগিয়ে কেরালা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং গুজরাট। মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, হরিয়ানাতেও ক্রমশ বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে সর্বোচ্চ সংক্রমণের তালিকায় যে ১০টি শহর তার মধ্যে ৮টিই মহারাষ্ট্রে অবস্থিত। এগুলো হলো- পুনে, নাগপুর, থানে, মুম্বাই, জলগাঁও, নাসিক এবং ঔরঙ্গবাদ। মহারাষ্ট্রে শুক্রবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮১৭ জন। চলতি বছরে ওই রাজ্যে এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।


আপনার মন্তব্য