শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:৪৫
আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:৫০
প্রিন্ট করুন printer

তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা

নুঝাত নাবিলাহ্

তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা
ফাইল ছবি

বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের জীবনের অন্যতম অংশ হচ্ছে বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সংযোগ। কিন্তু আধুনিক জীবনে ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় তরুণরা যোগাযোগের জন্য বেছে নিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামের মতো প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের অনায়াসে কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক নতুন প্ল্যাটফর্ম লাইকি ও স্ন্যাপচ্যাটের  স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতার প্রকাশ এবং সুপ্ত প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিচ্ছে।  

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেমন করে তরুণদের মধ্যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ উস্কে দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে তা নিয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন খবর গত কয়েক মাসে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংগুলো একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে বলে এসব খবরে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণদের ইন্টারেক্টিভ চ্যানেল তৈরি করতে এবং ফলোয়ারদের জন্য আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে তরুণরা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে পারছে এবং ভার্চুয়ালি বিশ্বের অগণিত মানুষের সামনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছে। 

তবে লক্ষনীয় ব্যাপার হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম সময়ে মনোযোগ আকর্ষণ করা যায় এবং এতে দ্রুত কিন্তু ক্ষণস্থায়ী আনন্দ লাভ করা যায়। এই দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষমতা এবং  ক্ষণস্থায়ী আনন্দ লাভের প্রবণতা তাদের এই প্রক্রিয়ায় এতটাই অভ্যস্ত করে ফেলতে পারে যে তারা অনেক সময় বিপথগামী হবার ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

তরুণ কন্টেন্ট নির্মাতারা তাদের ভিউয়ারদের আকৃষ্ট করতে সব সময় অভিনব উপায় অনুসন্ধান করে। কোন কোন কনটেন্ট নির্মাতাদের দর্শকের সংখ্যা লক্ষাধিক। জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে কখনও কখনও তারা এতো বেশি মরিয়া হয়ে ওঠে, যে তাদের কার্যকলাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। এ আচরণ তাদের সামাজিক অবস্থান, নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। যখন এমন কিছু ঘটে তখন স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ মহল সামাজিক মাধ্যমকে দায়ী করে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনার জন্য সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মকে দোষারোপ করা কি সঠিক অথবা ন্যায়সঙ্গত?

লাইকির মতো স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরির প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন হলেও ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। একইসাথে এগুলো গভীর আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করছে এ নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনি এগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে ব্যবহার কী ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এছাড়াও সামাজিক ও লাইফস্টাইল ট্রেন্ড তৈরিতে এরা একে অপরকে প্রভাবিত করছে। 
 
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ এখন যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যাবে। উপরের উল্লেখিত বিষয়গুলো উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। সাইবার বুলিংয়ের মতো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে শেখানোর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে তরুণদের শেখানোর দায়িত্ব সমাজের, যেন তারা তাদের সহায়তায় ইতিবাচক উন্নয়নের উপায় সম্পর্কে জানতে পারে এবং সমাজের উপকারে আসতে পারে। প্ল্যাটফর্মকে দোষারোপ করে সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সচেতনতা সংক্রান্ত ক্যাম্পেইন করতে পারে এবং অশোভনীয় কনটেন্ট নিষিদ্ধ করতে পারে; তবে এটি বাস্তব জীবনের গ্যাং গঠন, নিজেদের মাঝে মারামারি বা অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে তরুণদের বিরত রাখতে পারে না।

যোগাযোগের সুবিধার্থে সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। জনপ্রিয়তার দ্বারা এটি এমন জায়গায় পরিণত হয়েছে যার মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সাররা মানুষকে সাহায্য করতে পারে, মানুষ তার দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে, ব্যবসায়ীদের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোসহ আরও অনেক কিছু করতে পারে। তরুণ সমাজকে নিরাপদে রাখা এবং কিশোর গ্যাং মোকাবেলার দায়িত্ব শুধু কোন প্ল্যাটফর্মের নয়, এই দায়িত্ব সমগ্র সমাজ এবং দেশের।  

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির