শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:০৭

উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে কারফিউ

টেস্ট নিয়ে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী

আ স ম মাসুম, যুক্তরাজ্য

টেস্ট নিয়ে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক এবং স্থানীয় কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা টেস্টিং সিস্টেমের প্রতি গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইংল্যান্ডের করোনা টেস্টিং সিস্টেম এতোটাই দুর্বল যে সবচাইতে সংক্রমিত এলাকা বোল্টনেও যথা সময়ে টেস্ট করাতে বা টেস্ট বুকিং দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেও স্বীকার করেছেন, দেশে করোনা টেস্টিং ক্যাপাসিটি পর্যাপ্ত নয়। পার্লামেন্টারি কমিটির সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টেস্টিং সিস্টেমের উন্নতির জন্যে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের মধ্যে সবচাইতে বেশি সংক্রমিত এলাকা বোল্টনে প্রতি ১ লাখে ১শ ৯৬ জন আক্রান্ত। অথচ বোল্টনে বুধবার মাত্র কিছু সংখ্যক মানুষ করোনা টেস্টের সুযোগ পান। দিন ফুরাবার আগেই টেস্টিং ক্যাপাসিটি শেষ হয়।

এদিকে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত নর্থ ইস্ট ইংল্যান্ডে রাত ১০টার পর থেকে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্ট, বার এবং পাব বন্ধ থাকবে এবং স্বজনদের বাসায় বেড়ানো জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

নিউক্যাসলে সিটি কাউন্সিলের লিডার নিক ফরবিস বলেছেন, সরকারি নিয়ম নীতি কঠোর ও কঠিন ভাবে পালন করতে হবে। যদি করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে ফুল লক ডাউন দিতে হতে পারে। এই আওতায় পরবে নিউক্যাসলে, নর্থহ্যামবারল্যান্ড, নর্থ টেইনিসাইড, সাউথ টেইনিসাইড, গেইটসাইড, কান্ট্রি ডারহ্যাম, সান্ডারল্যান্ড সহ আশেপাশের এলাকা। এই এলাকায় প্রায় ১.৫ মিলিয়ন জনসাধারণের বসবাস।

হাউজিং সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিক বলেন, বহু সংখ্যক লোক প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বর্তমানে নর্থ ইস্ট ইংল্যান্ডের অবস্থা বেশী খারাপ। এখনই যদি কন্ট্রোল করা না যায় তবে এর ভয়াবহতা আরও বেড়ে যাবে। এই কঠোর নিয়ম পালনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।

করোনা বৃদ্ধির ভয়াবহতা ঠেকাতে জাতীয়ভাবে অন্তত দু সপ্তাহের জন্য লকডাউনে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রফেসর ক্রিস উইটি। যদিও সরকার এই প্রস্তাব উপেক্ষা করে বলেছে, জাতীয়ভাবে সমগ্র দেশ জুড়ে এক যোগে লক ডাউন দিবে না। তবে যে এলাকা বা শহরে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশী পাওয়া যাবে এলাকা ভিত্তিক সেই এলাকা লক ডাউন ঘোষণা করা হবে। কিছুদিন পূর্বেও লেইস্টার, ওয়েস্ট ইয়ার সাইয়ার, গ্রেটের ম্যানচেস্টার সহ বিভিন্ন স্থানে লক ডাউন দিয়ে সফলতা এসেছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

দি ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ এন্ড সোস্যাল কেয়ারের স্পোক প্যারসন বলেন, আমরা সব সময় মনিটর করছি কোথায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী সেই এলাকায় লক ডাউন সহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সেই সাথে রাত ১০ পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।

এই সব এলাকার এমপিরাও এলাকার জনসাধারণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি বিধিবিধান ও নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর