শিরোনাম
সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা

ছেলেবেলায় মায়েদের ম্যাজিক

রাফিউজ্জামান সিফাত

ছেলেবেলায় মায়েদের ম্যাজিক

  খেলায় মাঠে ব্যথা পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এল সন্তান। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মিথ্যা অজুহাত দিয়ে ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গেলেই মায়ের হাতে কয়েক ঘা হজম করা সন্তানদের কপালেই লেখা।

 

⇔  সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফেরা, টেবিল-চেয়ারে পড়তে বসা, উচ্চশব্দে পড়া, যেন রান্নাঘর থেকে পড়ার আওয়াজ শোনা যায়, মায়েদের পারিবারিক অলিখিত নিয়ম যা প্রতিটি সন্তানের অবশ্য পালনীয়।

 

⇔  বাবার কাছে বিচার দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পড়তে বসানোর কৌশল সব সময়ই কার্যকর, যা মায়েরা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করছেন।

 

⇔  কেনাকাটায় সন্তানরা ছোটবেলাতেই বেশি জনপ্রিয়। দিনের মধ্যে কয়েকবার মনোহরি দোকান থেকে  তেল, পিয়াজ, রসুন, ডিম, কাপড় কাচার সাবান ইত্যাদি আনা-নেওয়া করা হয় তাদের দিয়ে।    

 

⇔  বড় ভাই, বোনের ব্যবহৃত জামা সেলাইমেশিনে ঠিকঠাক করে বাসার ছোটদের পরিয়ে দেওয়ায় মায়েদের জুড়ি মেলা ভার। সেই জামা ছিঁড়ে গেলে ফেলে না দিয়ে গরম পাতিল ধরার লুছনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

 

⇔  মায়েরা বহু পুরনো বিস্কুটের কৌটা, সুই-সুতা রাখার কাজে ব্যবহার করে। খাটের নিচে, মিটসেফের ভিতরে, রান্নাঘরের ওপরের তাকে তারা বছরের পর বছর পুরনো হাঁড়ি-পাতিল, বাসনকোসন জমিয়ে রাখে।

 

⇔  বাজারসদাইয়ে মায়েদের চেয়ে ভালো দামাদামি আর কেউ পারে না। শুরুতে ১২শ টাকা দাম হাঁকানো পণ্য দেড়শ টাকায় কিনে নিয়ে আসা তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই নয়।

 

⇔  সিসিটিভির চোখ ফাঁকি দেওয়া যায় কিন্তু মায়েদের  চোখকে নয়। পাঠ্যবইয়ের মধ্যে লুকিয়ে গল্পের বই পড়লে মায়েরা ঠিকই সন্ধান পেয়ে যান।

 

⇔  ভোরে সূর্য ওঠে, রাতে চাঁদ। কোনো মিস নেই। তেমন ঘরের বাইরে আসার নির্দিষ্ট সময় পর থেকে মায়েদের ফোনকল আর মেসেজ আসবেই। মিস হবে না।

 

⇔  সন্তানের নানাবিধ প্রতিভা প্রদর্শন করে মায়েদের পছন্দের একটি কাজ। ‘আন্টিকে কবিতা আবৃত্তি করে  শোনাও,’  ‘একটা দেশাত্মবোধক গান গাও,’ ‘খালামনিকে নতুন তোলা নাচটা দেখাও তো’ বাসায় আগত অতিথিদের সামনে এভাবেই দুনিয়ার সব আবদার মায়েরা সন্তানদের সামনে পেশ করে।

 

⇔  ছেলেবেলায় অনেক সন্তানই রান্নার লবণ টেস্টারের কাজ নিপুণভাবে করে থাকে। রান্নার ফাঁকে লবণ ঠিক হয়েছে নাকি জানতে  ছেলেমেয়েদের কাছে ডেকে মায়েরা ডেকচি থেকে মাংসের টুকরো মুখে তুলে দেয়।

সর্বশেষ খবর