শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০২১ ২৩:৩৪

রানীর ঘাট এখন ভাবীর মোড়

দিনাজপুর প্রতিনিধি

রানীর ঘাট এখন ভাবীর মোড়
Google News

ভোজনরসিকদের সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো খাবার পরিবেশন করে সবার কাছেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন চার হোটেলের চারজন নারী। প্রথমে দুটি থেকে চারটি হোটেল, কিন্তু কারোরই যেন কমতি নেই ক্রেতার। এই চার নারীই সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল ইউপির সীমানাবর্তী রানীর ঘাট পরশেশ্বরপুর গ্রামের রানীর ঘাট মোড়ে এই চারটি পৃথক হোটেল চার নারীর।

এই রানীর ঘাট মোড়ে রয়েছে চারটি খাবার হোটেলসহ ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানটি সীমান্তবর্তী হলেও জেলাসহ পাশের ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারে খাবার খেতে আসেন এখানকার হোটেলে। এখানে দেশি হাঁসের মাংস বেশ সস্তায় পাওয়া যায়। যে কারণে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। খেতে আসা সবাই তাদের ভাবী বলে সম্বোধন করেন। এরপর থেকে রানীর ঘাট মোড় হয়ে ওঠে ‘ভাবীর মোড়’।

জেলার বোচাগঞ্জ এবং বিরল উপজেলার শেষ অংশে টাঙ্গন নদের পূর্বদিকে ভাবীর মোড়ের অবস্থান। পূর্ব-পশ্চিম রাস্তার দুই ধারে দুটি করে মোট চারটি ভাতের হোটেল। রাস্তার উত্তর পাশের দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং দক্ষিণ পাশে দুই বোন ভাতের হোটেল ব্যবসা করেন। হোটেলগুলোর নাম ভাবী হোটেল-১, ভাবী হোটেল-২, ভাবী হোটেল-৩ এবং বেলি ভাবির হোটেল। বেলি ভাবীর হোটেলের ভিতরে দেয়ালে বিভিন্ন ফুলের নকশাও আঁকা হয়েছে। প্রতিটি হোটেলের টেবিলে রাখা গামলা ভর্তি হাঁসের মাংস। নিরিবিলি পরিবেশে খেতে আসছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউবা পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে টাকা নেওয়া পর্যন্ত প্রায় সব কাজই করছেন ভাবীরাই।

প্রতিটি খাবার হোটেলে গড়ে ১৫-২০টি দেশি হাঁস রান্না করা হয়। হাঁসের মাংসের সঙ্গে থাকে নদীর ছোট মাছের চটচটি ও শুকনো মরিচে করা মাছ ভর্তা, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা ও শাকভাজি। প্রতি প্লেট হাঁসের মাংস ৫০-৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। ভর্তা ১০ টাকা, শাক ১০ টাকা আর মাছ চটচটি ৩০-৪০ টাকা এবং ভাত ১০ টাকা। হোটেল ব্যবসায়ী তাসলিমার তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দোকান সংলগ্ন বাড়ি করেছেন। হোটেল করেই তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তাসলিমা আক্তার বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগের শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে ট্রাকে করে বালু তোলা হতো। তখন এলাকাটিতে (রানীর ঘাট) কোনো বসতি ছিল না। সেই সময় নদী থেকে দিনে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ট্রাকে বালু তোলা হতো। বালু তোলার শ্রমিকদের জন্য তখন কাজের ফাঁকে একটু চা-নাস্তা করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। ওই ঘাটের পাশেই পাঁচতারা গ্রামের বাসিন্দা জালালউদ্দিন। বালু তোলা শ্রমিকদের অনুরোধে সেখানে ডাল-ভাত-ডিম দিয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।  সেই থেকে ধীরে ধীরে রানীর ঘাটের নাম বদলে হয়েছে ভাবীর মোড়।