শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুলাই, ২০২১ ২১:৫৮

আন্তর্জাতিক কংক্রিট প্রজেক্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

জামশেদ আলম রনি

আন্তর্জাতিক কংক্রিট প্রজেক্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ওপরে বাঁ থেকে মাহফুজুল ইসলাম, ইমতিয়াজ ইবনে গিয়াস, এজাজ আহমেদ, সৈয়দ মারুফ-উল হাসান, জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া,তাবাসসিমা ফারিয়া
Google News

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠন আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই)। অলাভজনক এই সংগঠনটি প্রতি বছর কংক্রিট প্রজেক্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় এ বছরই প্রথম বাংলাদেশ থেকে কোনো দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ১৫ ব্যাচের তিনটি দল সবকটি পুরস্কার অর্জন করেছে। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন- মো. মাহফুজুল ইসলাম ও ইমতিয়াজ ইবনে গিয়াস। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এজাজ আহমেদ ও সৈয়দ মারুফ-উল হাসানের দল প্রথম রানারআপ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া ও তাবাসসিমা ফারিয়ার দল দ্বিতীয় রানারআপ পুরস্কার অর্জন করেছে। 

জানা গেছে, বিখ্যাত ‘কংক্রিট ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিন’-এর পরবর্তী সংখ্যায় তাঁদের কাজ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অ্যা ক্রিটিক্যাল রিভিউ অন দ্য পারফরম্যান্স অব মাইক্রোবায়াল কংক্রিট ডেভেলপড ইউজিং ই. কলি ব্যাকটেরিয়া শিরোনামের প্রজেক্টের জন্য প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের উপদেষ্টা ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম। প্রথম রানারআপ অর্জনকারী দলের প্রজেক্টের শিরোনাম, ইফেক্ট অব কমপেকশন অন দ্য প্রপার্টিজ অব ইকো ফ্রেন্ডলি বিল্ডিং ব্লক ইউজিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাইপ্রোডাক্টস। দ্বিতীয় রানারআপ দলের প্রজেক্টের শিরোনাম, ‘টারনারি কম্বিনেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়েস্টেজ ফর সাইটেইনেবল জিওপলিমার মরটারস। এই দুটি দলের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জি এম সাদিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব বোঝার জন্য একটি তথ্য উল্লেখ করা দরকার। তা হলো, দীর্ঘদিন পর চলতি বছর আমাদের জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এই বিধিমালার সিংহভাগই আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটকে ফলো করে করা।’ ১৯০৫ সালে গঠিত হয় আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই)। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানভিত্তিক সংগঠনটির সদস্য বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশ। সংগঠনটি প্রতি বছর সদস্য দেশগুলোর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে কংক্রিট প্রজেক্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। গত মার্চে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র আহ্বান করা হয়। ২৭ জুলাই মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের এসিআই সদর দফতর থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে ৭৫০ মার্কিন ডলার এবং একটি আন্তর্জাতিক সনদপত্র পাবে। অন্যদিকে প্রথম রানারআপ দল ৫০০ মার্কিন ডলার এবং দ্বিতীয় রানারআপ দল ২৫০ মার্কিন ডলারের পাশাপাশি একটি করে সনদপত্র পাবে। সার্বিক বিষয়ে উক্ত প্রজেক্টের দুটি দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক জি এম সাদিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে গবেষণা খুব কম হয়। সেক্ষেত্রে মনের আনন্দেই গবেষণা কাজে যুক্ত আছি। বিশেষত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গবেষণা করে তাদের শেখানো, অনুপ্রাণিত করা, তাদের ভবিষ্যৎটা আরও উজ্জ্বল করার চেষ্টা করি। আমরা যে প্রজেক্টগুলো নিই, সেগুলো সরকারি তরফ থেকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রজেক্টগুলো বাস্তবধর্মী করতে সরকারি নীতিমালা দরকার।’ দ্বিতীয় প্রজেক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারি ঘোষণা মোতাবেক ২০২৫ সালের পর ইটের পরিবর্তে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ইটের বিকল্প কেউ কিছু খুঁজে বের করছে না। আমরা এটি বের করার চেষ্টা করছি। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে আমরা স্বীকৃতি পেলাম। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অর্থাৎ গণপূর্ত অধিদফতর যদি এই গবেষণা ব্যবহার শুরু না করে তাহলে আমাদের গবেষণা কীভাবে সার্থক হবে? শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগকে যদি নির্দেশনা দেওয়া না হয় এই গবেষণাগুলো ব্যবহার শুরু করার, তাহলে এর সার্থকতা কোথায়? এসিআই কর্তৃপক্ষ বিজয়ী ছয় শিক্ষার্থীকে সরাসরি দেখতে চেয়েছেন। তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে রেজিস্ট্রেশন ফি ৬০০ ডলার, সেটিও তারা মওকুফ করে দিয়েছে। এখন যাতায়াত খরচ বাবদ যে ব্যয় সেটি বহন করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটাই কঠিন। এখন সরকারিভাবে যদি এ ব্যয় বহন করা হয়, তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে দেশের পতাকা তুলে ধরবে। এতে আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে। যেভাবে আমেরিকানরা তাদের দেশেই পুরস্কার পায়নি, এটা খুবই অভাবনীয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের বিল্ডিং কোডগুলো পরিবর্তন করা দরকার। বিল্ডিং কোডগুলো হওয়া উচিত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তৈরি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেসব গবেষণা হচ্ছে সেগুলো ধরে আমাদের দেশের জন্য যেটা প্রযোজ্য সে অনুযায়ী বিল্ডিং কোড হওয়া উচিত। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নিয়ে কমিটি করে কোডগুলো আপডেট করতে হবে।  বলান্টিয়ার ভিত্তিতে এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এই পেশায় যাঁরা এসব নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের নিয়েই হওয়া উচিত। ’