শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

মো. কাবুল উদ্দিন খান, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। পণ্যটির সুনাম ধরে রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন করে খেজুর গাছের চারা রোপণ, গাছিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার নতুন পাঁচ লাখ খেজুর গাছের চারা রোপণ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এ আন্তরিকতায় গাছিরাও নতুন করে চারা রোপণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ২০০ বছরের ঐতিহ্য মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় উৎপাদন বিভিন্ন কারণে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, ব্রিটেনের রানি মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। হাজারী পরিবারের ষষ্ঠ বংশধর শামীম হাজারী বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ প্রথম এ হাজারী গুড় তৈরি করেন। বর্তমানে ২৮টি পরিবার এ পেশায় জড়িত। এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নকল গুড় বাজারজাত করেন। এতে এখানকার গুড়ের সুনাম ক্ষুণ হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে বর্তমানে ভেজাল গুড় তৈরি কমছে। মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী-পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার হাজারী গুড় দেশসেরা। এ গুড়ের চাহিদা বেশি থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চুনের সঙ্গে চিনি, রং মিশিয়ে অন্য জেলা থেকে তৈরি করে ভেজাল গুড় মানিকগঞ্জে বিক্রি করে থাকে। ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, মানিকগঞ্জের ব্র্যান্ডিং পণ্য হাজারী গুড়। দেশব্যাপী এর সুনাম রয়েছে। জেলায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ১ কোটি টাকার হাজারী গুড় বিক্রি হয়। বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছের সংখ্যা কমেছে। আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে বেশি করে খেজুর গাছ রোপণ করলে আবারও হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

সর্বশেষ খবর