শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৪

বদলে যাওয়া রোনালদো

রাশেদুর রহমান

বদলে যাওয়া রোনালদো

গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত দুটোয় স্ট্যাড দ্য ফ্রান্সের ফ্যান জোনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দেখা দিয়েছিলেন। তার হাত দুটো ধরেছিলেন রিকার্ডো কারভালহো, ন্যানি, হোসে ফন্তে, ব্রুনো আলভেস আর এডাররা। পুরনো পর্তুগিজ সুরে সমস্বরে তারা গাইছিলেন ‘পুকো ইম্পর্টা, পুকো ইম্পর্টা’ গান। গানের সঙ্গে চলছিল নৃত্যও। কিন্তু রোনালদোর নাচের মধ্যে কিছুটা আড়ষ্টতা ছিল। বাম গোড়ালির নিচে আঘাত পাওয়ায় ঠিকমতো স্টেপ করতে পারছিলেন না রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তবে এই আড়ষ্টতার মধ্যেও রোনালদোর খুশির পরিমাণ অনুভব করা যাচ্ছিল। তিনটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর তিনটা ফিফা ব্যালন ডি’অর জেতার পরও রোনালদোর ক্যারিয়ারে এমন সুখের মুহূর্ত কখনোই আসেনি। তাছাড়া ইউরো কাপ জয়ের মাধ্যমেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্বার্থপর ভাবমূর্তি অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেল।

কেন? রোনালদো মাঠ থেকে ব্যথায় কাতরে উঠে যাওয়ার পর পর্তুগিজ শিবিরে ছিল পরাজয়ের আতঙ্ক। এই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রেখেছিলেন রোনালদোই। সেডরিক সোয়ারস বলছেন, ‘দলের সবার কাছেই ঘটনাটা ছিল চরম আঘাত। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর রোনালদো আমাদেরকে কিছু জাদুময় শব্দ শোনান। আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেন। রোনালদো বলছিলেন, ‘শুন সবাই, আমরাই কিন্তু জিতব। ঐক্যবদ্ধ থাক এবং জয়ের জন্য লড়াই কর।’ দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদো সম্পূর্ণই বদলে গেলেন। একজন কোচের ভূমিকা পালন করছিলেন তিনি। প্রতিটা পর্তুগিজ মাঠে রোনালদোর অশরীরী উপস্থিতি অনুভব করছিল। সোয়ারস যেমন বললেন, ‘রোনালদো প্রতিটা মুহূর্তেই আমাদেরকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিল।’ সোয়ারসের এই বক্তব্য প্রমাণ করছে টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এ তরুণ পর্তুগিজদের পিতার ভূমিকায় ছিলেন। কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সব দায়িত্ব। অধিনায়ক হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেরা তারকা হিসেবে মাঠের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণেই ফাইনালে অনুপস্থিত থেকেও ইউরো কাপটা জিতলেন মূলত রোনালদোই।

৩১ বছর বয়সী রোনালদো দেখালেন যে তিনি এখন বড় হয়ে গেছেন। দায়িত্ব নিতে শিখেছেন। এমনকি পিতার দায়িত্বও। দলের পিতা থেকে এখন তিনি পুরো পর্তুগালেরই পিতার ভূমিকায়। এতকিছু জয় করেছেন ক্যারিয়ারে কিন্তু সব সময়ই বিতর্ক পিছু নিয়েছে তার। এবারেই প্রথম, ফুটবল দুনিয়া মুক্তমনে প্রশংসা করছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। তার মধ্যে নেই সেই উদ্ধত আচরণ। রোনালদোর এই যে অর্জন, এগুলো তাকে পর্তুগালে তো বটেই ফুটবল ইতিহাসেই একজন কিংবদন্তির মর্যাদা এনে দিয়েছে। ইউরোপে এ পর্তুগিজ বিপ্লবের নায়ক রোনালদো হয়ত খুব বেশিদিন আর ফুটবল প্রাঙ্গণে বিচরণ করতে পারবেন না তবে তার এ বিপ্লব বহুদিন পর্যন্ত টিকে থাকবে। বল পজেশনিং নিয়ে স্পেনীয়রা যে সফলতা পেয়েছিল তার যুগটা শেষ। এবারের ইউরোতে রোনালদোরা সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। আর পর্তুগালের নামও এবার এলিট দলগুলোর সঙ্গে উচ্চারিত হবে। এই কৃতিত্বটাও তো রোনালদোরই।


আপনার মন্তব্য