Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৯ ২২:৩২

সরকারি প্রকল্প গিলে খাচ্ছে খাল

জয়শ্রী ভাদুড়ী

সরকারি প্রকল্প গিলে খাচ্ছে খাল
আবর্জনায় দখলে-দূষণে ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে এক সময়ের পরিচ্ছন্ন রামচন্দ্র খাল ছবি : জয়ীতা রায়

হালকা বৃষ্টিতেই ডুবে যায় মিরপুর এলাকা। মিরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাউনিয়া খাল চেপে ধরেছে সরকারের দুই প্রকল্প। ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জয়নগর প্রকল্পের জন্য বিলীন হচ্ছে বাউনিয়া খালের অস্তিত্ব। খাল পুনরুদ্ধারে আদালতের রায় থেকে শুরু করে কয়েক দফা সংস্থাগুলোর মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও উদ্ধার হয়নি দখল হওয়া খাল।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর-১৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের পাশ থেকে বাউনিয়া খালের শুরু। প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ খালের প্রায় এক হাজার ১৮২ মিটারের (জয়নগর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর) মালিক জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। বাকি অংশের মালিক ওয়াসা। ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের এ পাড়ে রয়েছে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের একটি ভবন। মিরপুর ১৩ নম্বর, বাইশটেকি ও ভাষানটেকের সংযোগস্থলে যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান খাল দখল করেছে, তার মাঝামাঝি জায়গায় আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড রয়েছে। সরকারি দখলের এমন সুযোগ ব্যবহার করছে প্রভাবশালীরা। তারা দখল করে নিচ্ছে ওই খালের জায়গা।

ওয়াসা জানিয়েছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খালটির প্রস্থ হওয়ার কথা ৬০ ফুট। কিন্তু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই। বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তূপ এবং দখলে নালায় পরিণত হয়েছে খাল। আট কিলোমিটার লম্বা বাউনিয়া খালকে দুই জায়গায় চেপে ধরেছে সরকারেরই দুই প্রকল্প।

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জামাল মোস্তফা বলেন, আমি এ এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি দফতরে দৌড়িয়েছি এ খাল পুনরুদ্ধারে। ওয়াসা থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়েও কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু এখনো উদ্ধার হয়নি খাল। রাজধানীজুড়ে শিরা-উপশিরার মতো ছড়িয়ে ছিল ৪৬টি খাল। এসব খাল সচল থাকলে ভারি বর্ষণেও জলাবদ্ধতা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বর্তমানে যে কোনো মাত্রার বৃষ্টি হলেই অচল হয়ে যায় গোটা নগরী। খাল দখল, খালের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া, প্রশস্ত খাল সংকুচিত করার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। রাজধানীর ৪৬ খালের মধ্যে ২৬টির অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি ঢাকা ওয়াসার। কিন্তু ওয়াসার খাতায় টিকে থাকা কয়েকটি খালও দখলের পথে।

উত্তরার দক্ষিণ আজমপুর থেকে শুরু হয়ে কসাইবাড়ি ঘুরে মোল্লারটেক গিয়ে শেষ হওয়া কসাইবাড়ি খালটিকে সাধারণভাবে বোঝার উপায় নেই। ছোট একটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে খালটি। এ ছাড়া সরকারি নথিতে ৬০ ফুট প্রশস্ত বাসাবো খাল এখন ৩০ ফুট, মহাখালী খাল ৬০ ফুটের স্থলে ৩০ ফুট, দ্বিগুণ খাল ২০০ ফুটের বদলে ১৭০ ফুট, আবদুল্ল­াহপুর খাল ১০০ ফুটের বদলে ৬৫ ফুট, কল্যাণপুর প্রধান খাল ১২০ ফুটের বদলে স্থানভেদে ৬০ থেকে ৭০ ফুট, কল্যাণপুর ‘ক’ খালের বিশাল অংশে এখন সরু ড্রেন, রূপনগর খাল ৬০ ফুটের স্থলে ২৫ থেকে ৩০ ফুট, ইব্রাহিমপুর খালের কচুক্ষেতসংলগ্ন মাঝামাঝি স্থানে ৩০ ফুটের স্থলে রয়েছে ১৮ ফুট। এসব খাল দখলের চিত্র নিয়ে প্রতি বছরই আলোচনা আছে কিন্তু নেই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা সবুজ হোসেন বলেন, প্রতি বছর বৃষ্টিতে মিরপুর ১৩ সংলগ্ন আশপাশের এলাকায় জলজট তৈরি হয়। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে রাস্তায়। মুষলধারে বৃষ্টি হলে পানি বাড়িগুলোর নিচতলায় ঢুকে যায়। এ খাল পরিষ্কারের জন্য আমরা অনেক আন্দোলন করেছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং ওয়াসার মালিকানায় থাকা খালগুলো দখলের কবলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে নগর বিশ্লেষক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ঢাকা শহরের প্রাণ হলো এ খালগুলো। খালগুলো সচল থাকলে ঢাকাবাসীকে কখনো জলাবদ্ধতা সমস্যায় ভুগতে হতো না। সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় চিঠি চালাচালিতে আটকে থাকে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।


আপনার মন্তব্য