শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৭

খোঁড়াখুঁড়িতে নাভিশ্বাস

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

খোঁড়াখুঁড়িতে নাভিশ্বাস

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে ওয়াসা। তিন বছর ধরে বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কের এক পাশ বন্ধ। নগরের প্রাণকেন্দ্র নন্দন কানন রোড, ডিসি হিল হয়ে নিউমার্কেট সড়কটি ওয়াসার কোপে ক্ষতবিক্ষত। মুরাদপুর থেকে পাঁচলাইশ মোড় হয়ে অলি খাঁ মসজিদ পর্যন্ত সড়কে ওয়াসা স্থাপন করছে ৪৮ ইঞ্চির ট্রান্সমিশন পাইপলাইন। চকবাজার থেকে গনি বেকারি-জামালখান মোড় পর্যন্ত সড়কটিও ওয়াসার দখলে। গনি বেকারি থেকে জামালখান পর্যন্ত সড়কটিও বন্ধ। সার্সন রোড থেকে চট্টেশ্বরি হয়ে গোলজার মোড় পর্যন্ত চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। সিনেমা প্যালেস থেকে রাইফেল ক্লাব মোড় পর্যন্ত সড়কটিও বন্ধ।  এভাবে চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনে নগরের অধিকাংশ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। ভোগান্তিতে নাভিশ্বাস ওঠছে নগরবাসীর। সড়কে এলোমেলাভাবে পড়ে আছে কাদামাটি ও মেরামত উপকরণ। বাতাসে উড়ছে ধুলামাটি। দুর্ভোগে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থীরা।      

অভিযোগ আছে, ওয়াসা সড়ক খুঁড়লে নিয়ম মতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) তা মেরামত করে। কিন্তু দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের চরম অভাব। এ ব্যাপারে চসিকের সাধারণ সভায় স্বয়ং মেয়রও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সমন্বয়হীনতার কারণেই নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কারণ চসিক সড়ক মেরামত করার পরই দেখা যায় ওয়াসা ওই সড়ক কাটে। চকবাজারের বাসিন্দা ফয়সাল নেওয়াজ বলেন, ‘চকবাজার, সার্সন রোড, নন্দন কাননসহ ওয়াসা খোঁড়াখুঁড়ি করা সড়কগুলো এখন মড়কে পরিণত হয়েছে। সড়কে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয়ে উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়।’ বর্তমানে চলছে ১৪ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার কর্ণফুলী পানি শোধনগার-২ এবং ৯ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ। এ দুই প্রকল্পের কাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি সড়ক কাটা হচ্ছে। এসব সড়কে ৪৮ ইঞ্চির ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরে পানি সরবরাহ উন্নীতকরণ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় বহদ্দারহাট থেকে কাস্টমস মোড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন হবে। 

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নীতকরণ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘১১ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপনের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ। আগামী জানুয়ারিতে পুরো কাজ শেষ হওয়ার আশা। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝছি। তবে দুর্ভোগ কমাতে দিন-রাত কাজ চলছে।’  

কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ এর উপ-পরিচালক মাকছুদ আলম বলেন, ‘নগরে ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সে বিবেচনায় দ্রুতগতিতে কাজ করা হচ্ছে।’

কর্ণফুলী পানি শোধনাগার-২ এর আওতায় আরও প্রায় ১৬টি সড়ক কাটা হবে। এর মধ্যে আছে, হালিশহর এ ব্লকের এক নম্বর রোড (এলিভেটেড ট্যাংক থেকে আর্টিলারি পর্যন্ত), জে ব্লকের এক নম্বর রোড, আই ব্লকের এক নম্বর রোড, বেপারিপাড়া থেকে চৌমুহনী মোড় পর্যন্ত, হালিশহর রোড, বাদামতলি মোড় থেকে সব্দর আলী রোড হয়ে কমার্স কলেজ রোড, অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর-হাটহাজারী রোড, মুরাদপুর রেলগেট থেকে মোহাম্মদপুর রোড, বাটালি হিল থেকে লালখান বাজার মোড় রোড, টাইগারপাস মোড় থেকে কদমতলি, নিউমার্কেট থেকে দারোগাহাট পর্যন্ত সদরঘাট রোড, কদমতলি থেকে বাটালি হিল রোড, চৈতন্য গলি রোড হয়ে জুবলী রোড-নন্দন কানন রোড, জেসি গুহ রোড হয়ে আবার নন্দন কানন-নিউমার্কেট মোড় থেকে কোতোয়ালি, মহিম দাস রোড হয়ে হারাচন্দ্র মুন্সেফ লেন-বান্ডেল রোড পর্যন্ত।


আপনার মন্তব্য