শিরোনাম
মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনার স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে না

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এখনো প্রায় ১৫০ রোগী ভর্তি আছেন। আউটডোর থেকে জরুরি বিভাগ সব জায়গায় মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছে মানুষ। রোগী এবং স্বজন কারও মুখেই নেই মাস্ক

জয়শ্রী ভাদুড়ী

করোনার স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে না

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় কোনো আগ্রহ নেই মানুষের মধ্যে। ভয়ডরহীন মানুষ অবাধে চলছে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই -বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন করে সংক্রমণ যেন বাড়তে না পারে এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে বলা হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ।

মাস্ক ছাড়াই অফিস, আদালত, বাজার, গণপরিবহনে চলাফেরা করছে মানুষ। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। গতকাল বিমানবন্দর রেলস্টেশনে দেখা যায়, সামাজিক দূরত্ব না মেনে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষ। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কমলাপুর যেতে গাদাগাদি করে তারা ট্রেনে উঠছে। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের মুখে মাস্ক। অধিকাংশের মাস্ক থুতনিতে। অনেকে কোমরে চাবির রিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছেন। হাত না ধুয়ে চলছে হোটেল রেস্টুরেন্টে খাওয়া।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার নিম্নমুখী। কিন্তু আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী যে কোনো সময় দেশেও পাওয়া যেতে পারে। তাই বন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। দেশের বাইরে থেকে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে যে কোনো ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। গণপরিবহনে ভিড়, গাদাগাদি করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, উপসর্গ দেখা দিলে করোনা টেস্ট করাতে হবে। জ্বর, কাশি নিয়ে বাইরে বের হওয়া যাবে না। নিজের, পরিবারের এবং চারপাশের মানুষের সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে। দেশে ব্যাপক পরিসরে চলছে টিকাদান। গণটিকা ক্যাম্পেইনে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। টিকা নিলে করোনার ঝুঁকি এবং জটিলতা দুটোই কমবে।

গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দেখা যায়, ফুটপাথের ওপরে ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকানের বেঞ্চে বসে খাবার খাচ্ছে মানুষ। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পানি দিয়ে হাত ধুয়ে খাবার খাচ্ছেন তারা। পাশেই রাস্তা থেকে যানবাহন চললেই উড়ে আসছে ধুলা। এখানে বসে খাওয়া মানুষের অধিকাংশই নিম্নআয়ের।

দোকানের বেঞ্চে বসে ভাত খাচ্ছিলেন রিকশা চালক ফজলুল মিয়া। তিনি বলেন, পল্টন, ঢাকা মেডিকেল, মতিঝিল এই এলাকাতে আমি পাঁচ বছর ধরে রিকশা চালাই। প্রতিদিন খাবার নিয়ে বের হওয়া তো সম্ভব নয়। এই দোকানদারের সঙ্গে দুপুরে খাওয়ার চুক্তি করা আছে। রিকশা জমার টাকা, পরিবারের খরচ চালিয়ে বেশি দামে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। করোনার ভয় আছে, কিন্তু উপায়  নেই।

হাসপাতালে ভেসে বেড়ায় নানা রোগের জীবাণু। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এখনো প্রায় ১৫০ রোগী ভর্তি আছেন। অথচ হাসপাতালের আউটডোর থেকে জরুরি বিভাগ সব জায়গায় মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছে মানুষ। রোগী এবং স্বজন কারও মুখেই নেই মাস্ক। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় উধাও হয়ে গেছে স্বাস্থ্যবিধি।

শীতের বাতাস বয়ে চলেছে নগরজুড়ে। সকাল-সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী বাসগুলোতে জানালা বন্ধ করে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে মানুষ। বদ্ধ ঘরে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। ফুডকোর্ট, রেস্টুরেন্টে বদ্ধ জায়গায় ভিড় করে চলছে আড্ডা আর খাওয়া। দীর্ঘ সময় মাস্ক ছাড়া বসে থাকায় বাড়ছে করোনা ঝুঁকি।

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ ড. আবু জামিল ফয়সাল বলেছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দেশে নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে বন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং দ্রুত সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনার যে কোনো ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আবার জোর দিতে হবে। বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। শিশুরা মাস্ক পরে স্কুলে গেলেও অভিভাবকরা অনেক সময় মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এগুলোর পাশাপাশি টিকা কর্মসূচিতে জোর দিতে হবে। টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ আছে। টিকা গ্রহীতার সংখ্যা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে।

সর্বশেষ খবর