শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মে, ২০২১ ২৩:০৫

করোনাকালে দেশে দেশে ঈদ

আ ব দু ল কা দে র

করোনাকালে দেশে দেশে ঈদ
Google News

পরপর দুই বছর; করোনাকাল বদলে দিয়েছে প্রেক্ষাপট। থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। উৎসবের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে করোনার থাবায়। অদৃশ্য শত্রুর বিস্তার রোধে অনেক দেশ জারি রেখেছে লকডাউন। তবু ঈদ আসে, আসে উৎসব। ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অন্যরকমভাবে উদযাপিত হবে  এবারের ঈদুল ফিতর উৎসব...

মধ্যপ্রাচ্যে করোনাকালীন ঈদ

সারা বিশ্বে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের পরিস্থিতিও ভিন্ন। পরপর দুই বছর; করোনাকালে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে বিশ্বের মুসলমানরা। এর মধ্যে বেড়ে চলেছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু। তাই বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারও কভিড-১৯ বিস্তার রোধে জারি করেছে লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ। ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছেন সবাই। তা হলো- কভিড-১৯ ভ্যাকসিন। যা অসুস্থ পৃথিবীকে সারিয়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবুও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ঈদ উৎসবে থাকছে কড়া বিধিনিষেধ। করোনা মহামারীর কারণে এ বছরের ঈদুল ফিতর উৎসবও কোনো ধরনের সমাবেশ ছাড়াই পালিত হবে। দেশগুলোর সরকার ঈদ উদযাপনের সময় সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের অনুরোধ করেছে। এ বছরও বেশির ভাগ মসজিদ বন্ধ থাকায় ঘরে বসে নামাজ পড়বেন অনেকে।

মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আর তাই সৌদি সরকার শপিং মলগুলোয় কাজের সময় বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করেছে। যেন বর্ধিত এই সময় ভিড় এড়িয়ে লোকজন ঈদের কেনাকাটা করতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া ঈদুল ফিতরের নামাজ মসজিদে আদায় করতে পারবে বলে জানিয়েছে সৌদি সরকার। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্র মসজিদে মুসল্লি ছাড়াই ঈদের নামাজ হবে। কভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে মুসলিম দেশগুলোয় তিনবার ঈদের নামাজ ও খুতবা পাঠের অনুমতি দিয়েছে সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-আশেক।

ইরান সরকার আশা করছে, শিগগিরই তারা কভিড-১৯-এর চতুর্থ ঢেউ কাটিয়ে উঠবে। তবে ঈদুল ফিতর উৎসবের আগে দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে।  দেশটির অ্যান্টি করোনাভাইরাস দফতরের মুখপাত্র বলেন, ১১ মে দুপুর থেকে সব শহরে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যা ১৫ মে দুপুর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে দেশটির কয়েকটি মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান তালেবান। ঈদের প্রথম থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত তারা দেশের কোথাও কোনো হামলা চালাবে না। তবে এই তিন দিনে তাদের ওপর কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এদিকে ঈদের কেনাকাটায় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে দেশটিতে। এ সময় করোনার স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল।

শিয়া অধ্যুষিত ইরাকে করোনা রোধে ১০ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে ঈদুল ফিতরের ছুটিও অন্তর্ভুক্ত। ইরাকের মন্ত্রিসভা ১২ মে থেকে এই লকডাউনের অনুমোদন দেয়। লকডাউনে দেশটির শপিং মল, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, সিনেমা, পার্ক বন্ধ থাকবে। বিবাহ বা সামাজিক অনুষ্ঠানও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।

লেবাননের সুন্নি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ বহাল থাকলেও পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য মসজিদ খোলা হবে। তবে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের আহ্‌বান জানিয়েছে লেবানন সরকার। এদিকে ঈদ উৎসব উপলক্ষে দেশটির ত্রিপোলিতে সুফি ব্যান্ড দলকে সংগীত পরিবেশন করতে দেখা গেছে।

কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে মসজিদে ঈদের নামাজ বা জনসমাগম বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওমান সরকার। দেশটিতে ঈদ উদযাপনে আত্মীয়র বাড়িতে যাওয়া এবং জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেন কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের মাস্ক পরে ঈদুল ফিতর উদযাপন করার জন্য অনুরোধ করেছে। যেহেতু সংক্রমণ রোধে দেশটির চেষ্টা চলছে, তাই নাগরিকদের ঘরে ঈদ উদযাপন ও মহামারী থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ জর্ডানে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। করোনা-সংক্রমিত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ঈদ উদযাপনে সতর্কতা অনুসরণ করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এবারের ঈদ উৎসবেও থাকছে করোনাভাইরাসের  কালো ছায়া।

 

তুরস্ক-রাশিয়ায় এবারও বর্ণহীন ঈদ

পবিত্র মাহে রমজান শেষে ঈদুল ফিতর যখন সমাগত, ঠিক তখন তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে তুরস্ক। দেশটির গণমাধ্যম জানায়, সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লকডাউন চলবে ২৯ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত। জরুরি কেনাকাটা ও চিকিৎসাসেবা ব্যতীত লোকজনকে ঘরে অবস্থান করতে হবে। অর্থাৎ এবারও বর্ণহীন ঈদ পালন করবে তুরস্কের মুসলমানরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাতের অনুমতি দেয় তুর্কি সরকার। অন্যদিকে রাশিয়ায়ও ম্লান এবারের ঈদুল ফিতর। দেশটির মুসলমানরা এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

 

বিধিনিষেধ মেনেই ইউরোপে ঈদ উৎসব

ইউরোপে ১৩ মে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পরপর দুই বছর মহামারীর মধ্যে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে ইউরোপের মুসলমানরা। এই অঞ্চলের মানুষ করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। সংক্রমণ কমতে থাকায় অঞ্চলটির দেশগুলোয় শিথিল করা হয়েছে করোনা নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাজ্যে ২০২০ সালের তুলনায় বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেন মুসলিম কাউন্সিল। তবে ঈদের নামাজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের মুসলমানরাও গতবারের তুলনায় শিথিলতায় পালন করতে পারবে ঈদুল ফিতর। বুলগেরিয়া, আলবেনিয়াসহ অন্যান্য দেশের মুসলমানরাও বিধিনিষেধ মেনে পালন করবে ঈদ উৎসব।

 

দূরত্ব মেনে আফ্রিকায় ঈদের জামাত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায়ও হবে না কোনো ঈদের জামাত। দেশটির সরকার মুসলমানদের ঘরে বসে ঈদের নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে আফ্রিকার অন্যান্য দেশ যেমন- সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও নাইজেরিয়ায় করোনার কারণে ঈদের আমেজ নেই। আফ্রিকার দেশগুলোর সরকার ঈদুল ফিতরের আগ মুহুর্তে সংক্রমণ বিস্তার রোধে বিধিনিষেধ জারি করেছে। দেশগুলোর সরকার সুরক্ষাবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেছে। পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতি, আলজেরিয়া এবং কেনিয়া গত বছরের মতো সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের জামাতের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

 

আমেরিকায় ঈদ উদযাপনে শিথিলতা

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা গতবারের তুলনায় শিথিল পরিস্থিতিতে উদযাপন করবে এবারের ঈদুল ফিতর। নিউইয়র্ক শহরসহ দেশটির অন্যান্য শহরে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। দেশটির কর্তৃপক্ষ করোনার বিধিনিষেধ মেনে ঈদ উদযাপনের অনুরোধ জানায়। একইভাবে ঈদের খুশি ভাগ করে নেবেন কানাডার মুসলিম ধর্মাবলম্বরীরা। এদিকে মরক্কোয় বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। মরক্কোর মুসলিম গুরুরা ঈদুল ফিতরের নামাজ বাড়িতে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একইভাবে গিয়ানা, বারমুডা, পানামাসহ অন্যান্য দেশেও বিধিনিষেধ মেনে ঈদ উদযাপন করবে জানায় দেশগুলোর গণমাধ্যম। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

 

ফিলিস্তিনে বাতিল ঈদ উৎসব

করোনাকালেও থেমে নেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বরতা। পবিত্র রমজান মাসের জুমাতুল বিদায় ইসরায়েলি পুলিশের হামলায় তিনশর বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় শিশুসহ ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিহতদের প্রতি শোক জানাতে ঈদুল ফিতরের উৎসব বাতিল করেছেন। ইসরায়েলি আদালত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর উচ্ছেদের ঘোষণার পর থেকে সেখানে উত্তেজনা চলছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য উচ্ছেদ অভিযান রোধে জেরুজালেমে পাহারায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল, স্টান গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। ওই সংঘর্ষে ৩০৫ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে অন্যতম শ্রদ্ধার স্থান, তবে এটি ইহুদিদের কাছেও একটি পবিত্র স্থান, যাকে তারা টেম্পল মাউন্ট হিসেবে জানে। বর্তমানে মসজিদটিতে মোতায়েন করা হয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ।

 

বাড়ি ফেরায় নিষেধাজ্ঞা ইন্দোনেশিয়ার

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় সর্বাধিক করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকার পূর্ব ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত জাহাজ, বিমান, গণপরিবহন ও রেলপথ বন্ধ করেছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঈদে এমনিতেই বাড়ি ফিরতে আগ্রহী নয় বেশির ভাগ মানুষ। তবে ২৪ শতাংশ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে চায়। আর সে সূত্র ধরেই ঈদুল ফিতরে নাগরিকদের বাড়ি ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। ঈদের ছুটিতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এদিকে রমজানে ঈদের কেনাকাটায় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ৬ মে রাজধানী জাকার্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যারা সংক্রমণ রোধে যাত্রীদের বাড়ি ফেরায় নিরুৎসাহিত করে আসছে। তবে ঝুঁকি জেনেও কেউ কেউ বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশটিতে অধিক সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন, কেননা গত সপ্তাহে দেশটিতে ভারতের সংক্রামক ভেরিয়েন্ট ভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

 

মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরে ম্লান ঈদ উৎসব

দ্বিতীয় বছরের মতো আরেকটি উৎসববিহীন ঈদ পালন করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। ঈদের ঠিক আগ মুহুর্তে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। তাই এবারের ঈদেও প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে দেশটির লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। গত বছরও কঠোর লকডাউনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছিল দেশটির মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ মুসলিম। তাই দেশটির সরকার ছোট ছোট দলে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যকর আছে আংশিক লকডাউন। এসব অঞ্চলে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের দিন বাইরে বের হতে পারবে। অন্যদিকে মহামারীর কারণে এবারও ঈদের জামাত বাতিল করেছে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। দেশটির সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিনও সিঙ্গাপুরের ৭০টি মসজিদই বন্ধ থাকবে। তবে মুসলিমরা নিজ নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের জামাতে অংশ নিতে ও খুতবা শুনতে পারবে। এছাড়া স্থানীয় রেডিও, টেলিভিশন চ্যানেলে ঈদের জামাত ও খুতবা সম্প্রচার করা হবে।

 

ভারত-পাকিস্তানে ঘরবন্দী ঈদ

করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়ছে পাকিস্তান। এমতাবস্থায় দেশটির সরকার ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহুর্তে আট দিনের আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ৮ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের ভ্রমণ নিষিদ্ধ। গত বছরের এপ্রিলে এক মাসের লকডাউনের পর এটাই দেশটির সরকারের জারিকৃত সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ। এদিকে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত। করোনাভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্টে দেশটি পার করছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে খারাপ সময়। সংক্রমণ ও মৃত্যুতে প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড দেখছে ভারত। এ বছরও ঈদুল ফিতর উৎসব বাড়িতে বসেই কাটানোর নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির জামে মসজিদের শাহী ইমাম। তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের ইসলামিক গবেষকরা। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না এলেও গতবারের মতো ঈদ উদযাপন করবে দেশটির মুসলমানরা।

 

মিসরে ঈদ উৎসবে নিষেধাজ্ঞা

কভিড-১৯ মহামারীর তৃতীয় ঢেউ চলছে মিসরে। করোনাভাইরাসে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিসর কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, করোনার বিস্তার রোধে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ঈদুল ফিতরের উৎসব। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ বলবৎ থাকবে বিধিনিষেধ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলির বলেছেন, সব ধরনের দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল আংশিক বন্ধ থাকবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাত ৯টার পর দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, শপিং মল বন্ধ করতে হবে। তবে চালু থাকবে হোম ডেলিভারি। পাশাপাশি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, কাব, হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন বা জনসমাগম করা যাবে না। বন্ধ থাকবে কনসার্ট কিংবা বিয়ের আয়োজন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মিসরে ১২ মে থেকে ১৫ মে সাধারণ ছুটি। তবে ওই পাঁচদিন দেশটির সব উদ্যান, পার্ক, সমুদ্রসৈকত বন্ধ থাকবে। চলবে না গণপরিবহনও। তবে নির্দিষ্ট কিছু মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত।

 

ফিরে দেখা : ২০২০ সালের ঈদুল ফিতর

আরব আমিরাতে ঘরবন্দী মুসলমানদের ঈদের নামাজ


সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত


স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাতে অংশ নেয় থাইল্যান্ডের মুসল্লিরা


বসনিয়ায় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ