Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
শিশু দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
শিশুদের জন্য বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশুদের জন্য বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেড়ে ওঠার পথে শিশুদের যাতে বৈষম্যের শিকার হতে না হয় সমাজকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা চাই আমাদের দেশে ধনী, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী যে শিশুই হোক, সবার যেন সমান অধিকার থাকে। কোনো বৈষম্য যেন না থাকে। গতকাল সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটরিয়ামে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা     বলেন, কেউ দরিদ্র হয়ে জন্মায় না। ভাগ্যচক্রে কারও দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলে তাকে দারিদ্র্য মোকাবিলা করতে হয়; ধনীর ঘরে জন্মালে তা হয় না। কাজেই এই ব্যবধানটা যেন শিশুদের মধ্যে কোনোমতে না দেখা দেয়। প্রতিটি শিশু তার অধিকার যেন নিশ্চিতভাবে পায় তা সবাই দেখবেন, এটা আমি আশা করি। শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমাদের শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের আমাদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। পারিবারিক, সাংস্কৃতিক বা সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের যে মেধা তা বিকাশের যেন সুযোগ থাকে, সেই সুযোগটা আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। তিনি প্রতিটি শিশুর জন্য খাবার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই সমাজ তিনি গড়ে তোলার কথা বলেন, যেখানে বৈষম্য বলে কিছু থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় বঙ্গবন্ধুর সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন, সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে, ঝরে পড়া রোধ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার; চালু করা হয়েছে মিড ডে মিল। ধীরে ধীরে সব বই ই-বুক করে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় আবাসিক স্কুল করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডোয়ার্ড বেইগবেডার এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম। কোমলমতি শিশুদের পক্ষে শিশু বিকাশ কেন্দ্র গাজীপুর এবং আজিমপুরের দুই শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার মীম ও মুজিবুর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতেও সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দেওয়া হচ্ছে; স্কুল থেকে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দিতে প্রতিটি স্কুলে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটু সুযোগ সৃষ্টি করলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক ভালো কিছু করতে পারে। আমরা চাই এ দেশের কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না, কোনো শিশু মায়ের কোলে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে না। প্রত্যেক মানুষ তার জীবনের অধিকার পাবে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ কোটি মানুষের খাবার আমরা নিশ্চিত করেছি। তাহলে আমার শিশুরা কেন কষ্ট পাবে, কেন পুষ্টিহীনতায় ভুগবে? সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি, বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের পরিবেশনায় ‘সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাও বাংলাদেশ’ শীর্ষক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিশু একাডেমিতে শিশুদের জন্য একটি ডিজিটাল লাইব্রেরিরও উদ্বোধন করেন।

নানু তোমার পাসওয়ার্ডটা দাও তো : ‘নানু তোমার পাসওয়ার্ডটা দাও তো।’ এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার সাড়ে তিন বছরের নাতনি কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড কী জানতে চায়। শেখ হাসিনা বলেন, এর চেয়ে একটু বড় নাতনি ছোট বোনকে কি-বোর্ডের বোতামে চাপাচাপি করার পরামর্শ দিয়ে বলে, কি-বোর্ড চাপাচাপি করতে করতে সব পেয়ে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শেখাতে হয় না। ওরা অনেক প্রতিভাবান, দেখে দেখে অনেক কিছু শিখে যায়। তাই প্রতিভাবান এই শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুলে শিশুদের এক বেলা টিফিন খাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পেটে খাবার থাকলে স্কুল পালানোর প্রবণতা কমে যাবে। এজন্য সরকারি সহায়তার দিকে সব সময় না তাকিয়ে থেকে স্কুল কমিটির উদ্যোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

up-arrow