শিরোনাম
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১১:১০
বর্জ্য আর দখলবাজি

ধুঁকছে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদী

সাইফুল ইসলাম বেগ, বিশ্বনাথ (সিলেট)

ধুঁকছে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদী

ফাইল ছবি

দখল-দূষণের কারণে ভালো নেই বিশ্বনাথের ‘বাসিয়া’ নদী। এ নদীর সঙ্গে মিছে আছে এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য। একসময় নদীপথে ছোট-বড় নৌকায় যাতায়াত ছিল মানুষের। ছিল পণ্য পরিবহনের অবলম্বনও। বর্তমানে বেপরোয়া দখল আর বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হয়ে জৌলুস হারিয়ে ধুঁকছে খরস্রোতা এ নদী। টিকে আছে কঙ্কাল হয়ে। হারিয়েছে গভীরতা। এদিকে নদী রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হলেও তা দেখেনি আলোর মুখ। 

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, নদীর প্রতি এমন আচরণ ডেকে আনতে পারে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯১৫ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রূপ-যৌবন ছিল বাসিয়ার। চলাচল করত পালতোলা নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান। ১৯৫৬ সালের তথ্যানুযায়ী, বাসিয়া নদীর প্রস্থ ছিল ১৮০ থেকে ২০০ ফুট। ভরাট, দখল আর দূষণের ফলে প্রস্থ এখন দাঁড়িয়েছে ১১৫ ফুটে। বাসিয়ার উৎপত্তি হয় সুরমা নদীর কাটাগাঙের মাসুকগঞ্জ থেকে। বিশ্বনাথের দেওকলস, ওসমানীনগরের সৈয়দ মান্দারুকা হয়ে জগন্নাথপুরের স্বাধীন বাজারের কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে এ নদী। এর আগে বিশ্বনাথের ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিচরণ রয়েছে বাসিয়ার।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাসিয়া নদীর উভয় তীর দখল করে গড়ে উঠেছে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। স্থানে স্থানে বর্জ্যে ঠাসা নদীর বুক। দখলে এগিয়ে আছে বিশ্বনাথ পৌরশহর। শহরের অংশেই নদী দখলদার চিহ্নিত হয়েছে ১৮৬ জন। এ ছাড়াও নদীতীরে গড়ে ওঠা মাসুকগঞ্জ বাজার, কামালবাজার, মুনশীবাজার, লালাবাজার, কালীগঞ্জ বাজার, গুদামঘাট, কোনারাই বাজার, রানীগঞ্জ ও জামালপুর বাজারে কিছু কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে দখল হয়েছে নদী। উচ্ছেদে হয়েছে মামলা। দেওয়া হয় বরাদ্দও। পরে প্রভাবশালীদের কারণে কার্যকর হয়নি সেটি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৮ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন কাজ শুরু হলে দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় তাও।  

সিলেটের নদী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবদুল করিম কিম বলেন, ‘বাসিয়া নদী রক্ষায় যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা অনেক বিপন্ন নদীর ক্ষেত্রেও করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বাসিয়ায় দূষণ রোধ করা সম্ভব হয়নি। পৌর এলাকাতেই ময়লার ভাগাড়। বাজার এলাকায় থাকা দখলদারদের যে তালিকা করা হয়েছিল এখনো উচ্ছেদও করা যায়নি তাদের। আগেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে নদী খননের সব উদ্যোগ। বাসিয়া রক্ষা করতে হলে দূষণ বন্ধ করে উৎসমুখ ও পতনমুখ বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে খনন করতে হবে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নদী দূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। নদী রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আগের দখলদারদের তালিকা সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

সর্বশেষ খবর