রোপনের দীর্ঘ ২০-২২ বছর অতিবাহিত হলেও কোন পরিচর্যা ও যত্ন না নেয়ায় সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা পামগাছগুলো পরগাছা এবং পরজীবি উদ্ভিদের ডালপালায় রীতিমতো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছিল। পামগাছগুলোর এমন বেহাল দশা হলেও সৌন্দর্যবর্ধনে কেউ এতদিন এগিয়ে আসেননি। রেলওয়ে বিভাগও নীরব ছিল।
পামগাছের এমন বেহাল অবস্থার খবরটি নজরে আসলে পরগাছায় বিবর্ণ গাছের সারির সৌন্দর্যবর্ধনে এগিয়ে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখা। আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে পামগাছের সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর রেলস্টেশনের ঠিক পশ্চিমে রেললাইনের পাশে অবস্থিত ৪০টি পাম গাছ। অনেকদিন গাছগুলোর পরিচর্যা হয়নি। পামগাছজুড়ে অনেক পরগাছা ও পরজীবি উদ্ভিদ ইচ্ছেমতো বেড়ে উঠেছে। ফলে পামগাছের বীজ সেখানে মরা অবস্থায় পড়ে ছিল।
রবিবার সকালে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ও দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে ৭ জন শ্রমিককে দিয়ে পামগাছের পরিষ্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। এই শুভ কাজের সূচনায় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মো.সাইফুল ইসলাম, দৈনিক কালের কণ্ঠের কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা সভাপতি এম মুহিব রহমান, শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, তরুণ সমাজ সেবক মো. মোমিত খাঁন, ওষুধ ব্যবসায়ী নাবিল শমসেরি, রাঙ্গাটিলা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. জাকারিয়া হোসেন, রুহুল ইসলাম হৃদয়সহ শুভসংঘের নেতৃবৃন্দ।
পামগাছের নিচ থেকে মগডাল পর্যন্ত পরিষ্কার করতে আরো কয়েকদিন দিন সময় লাগবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন পরিবেশবাদী মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় রেলওয়ে বিভাগসহ স্থানীয় সচেতন মহলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালের দিকে শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রয়াত চেয়ারম্যান আবদুল মছব্বির রেলওয়ের কাছ থেকে কৃষিজমি বন্দোবস্ত নিয়ে স্থানটিতে পামগাছ লাগিয়েছিলেন। প্রথম দিকে গাছ থেকে কিছু ফল আহরণ করা হয়েছিল। পরে হয়তো বীজ থেকে তেল আহরণের প্রক্রিয়াজাত করতে সমস্যা তৈরি হয়, সেই থেকে ফল আহরণ থেমে যায়। গাছের প্রতি যত্ন-পরিচর্যাও আর তেমন করা হয়নি। তারপর থেকে গাছগুলো নিজের মতো করে বেড়ে উঠেছে। ৪০টি গাছের মধ্যে দু’টি গাছ মরে গেছে।
স্থানীয় শমসেরনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রোকন মিয়া বলেন, ‘পামগাছগুলো অনেকদিন পর তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’
কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্ধা সংস্কৃতিক কর্মী রুহুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘রেলস্টেশনে আসলে চোখ পড়ে পামগাছগুলোর দিকে। দীর্ঘদিন জীর্নদশা হতে মুক্ত হচ্ছে গাছগুলো। এখন গাছগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘকে সাধুবাদ জানাই।’
কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরগর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী নাবিল শমসেরি বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানিয়ে- এ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড চলমান রাখার আহ্বান জানান। শমশেরনগর লামাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মোমিত খাঁন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আমরা অভিভূত। এমন অনন্য কাজগুলোর সাথে আমরাও পাশে আছি।’