আলেয়া, বয়স ৬। পরনে পুরোনো জামা। থাকে গাজীপুর মহানগরের একটি বস্তিতে, বাবা রিকশাচালক। ২ মার্চ ঢাকা জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে সহমর্মিতার ইফতার অনুষ্ঠানে এসে সে জানায়, তার দুটি ইফতারি লাগবে। দুটি কেন? সে বলে, মা অসুস্থ। কাজে যেতে পারছেন না দুই দিন। অতিরিক্ত একটি ইফতার নিলে তিনিও খেতে পারবেন।
৯ বছর বয়সী নাজমুল। এখন ঢাকা জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে পানি বিক্রি করে, থাকে আবুর বস্তিতে। বাবা দিনমজুর। সে জানায়, সারা বছর ঠিকমতো খেতে পায় না। রোজা এলে অনেকেই ইফতারি দেন, সে ভালো খাবার খেতে পারে। ইফতারি দেওয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানায় নাজমুল।
রবিবার (২ মার্চ) রমজানের ১ম দিনে আলেয়া ও নাজমুলের মতো এমন অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু, দরিদ্র মানুষ, ভিক্ষুক ও স্টেশনে অবস্থান করা হকারদের নিয়ে সহমর্মিতার ইফতার আয়োজন করে গাজীপুর জেলা শাখার বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ইমরান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ, জেরিন, শ্যামল, হারুন, প্রত্যয় ভট্টাচার্য, জয়, বিপ্লব, জয়, খাইরুল, কাউছার প্রমূখ।
আয়োজনের প্রশংসা করে সমাজকর্মী আলী হাসান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগগুলো অনন্য। আমার দেখা সামাজিক কাজের এমন নজির আর কোনো সংগঠনের নেই। আমাদের এ সব কাজ সারা দেশে আরও বেশি করে যেতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ইফতার করার যে উদ্যোগ, তার জন্য গাজীপুর জেলা শাখার বন্ধুদের সাধুবাদ জানাই।
গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মুসাফির ইমরান ইফতার আয়োজনটি সফল করায় বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখার বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রমজানের প্রথম দিনটিতে মানুষের পাশে থাকতে পারায় মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই কাজগুলো আমাদের মনে আনন্দ আর আত্মতৃপ্তি দেয়। মানবিক কাজের চর্চার মাধ্যমে সমাজ তথা দেশকে ইতিবাচক পরিবর্তন করা জন্য আমাদের যে প্রচেষ্টা তা অব্যাহত থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক