চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব সুরাইয়া বেগমের জীবন যেন দীর্ঘ এক সংগ্রামের নাম। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়েছেন প্রায় ৩৫ বছর আগে। সেই শোকের ভার বয়ে আজও একা পথ চলছেন তিনি। একমাত্র কন্যা সংসারী হয়ে স্বামীর ঘরে থাকেন। ফলে নিজের বলতে এখন আর কেউ নেই সুরাইয়ার।
অসহায় এই বৃদ্ধা অন্যের জমিতে ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন। মাথা গোঁজার সেই ঠাঁইটুকুই তার শেষ আশ্রয়। আয়-রোজগারের কোনো পথ নেই। প্রতিবেশীদের সহানুভূতির ওপর নির্ভর করেই চলে তার নিত্যদিনের জীবনযাপন।
এরই মধ্যে বয়সের ভারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা শারীরিক জটিলতা। অসুস্থতা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। কাজ করার শক্তি নেই, নিজের প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্যও নেই। দিন কাটে অন্যের সাহায্যের আশায়, কখনো না খেয়ে, কখনো সামান্য খাবারে।
এমন মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ সুরাইয়া বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এক মাসের খাদ্য সহায়তা।
সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, জিরা, চিড়া, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, সাবান, হুইল পাউডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য।
খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সুরাইয়া বেগম বলেন, আমি অনেক কষ্টে দিন কাটাই। কেউ খোঁজ নেয় না। আজ এত কিছু পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আল্লাহ বসুন্ধরা শুসংঘের সবাইকে ভালো রাখুক।
এ সময় বসুন্ধরা শুভ সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আ স ম আব্দুর রউফ বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুরাইয়া বেগমের মতো অসহায় মানুষদের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায় বলেন, মানবিক মূল্যবোধ থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু তাই নয় এর আগে জেলার ৬০ জন নারীকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে ৬০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এছাড়া সামাজিক কর্মকাণ্ড, দাবি দাওয়ার ব্যাপারে সবসময় সোচ্চার রয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি জিসান আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, দপ্তর সম্পাদক শেখ লিটন, বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাফিস আহমেদ প্রমুখ।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ