বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা এড়ানো ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৩০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের নগরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি, কারণ, প্রতিরোধ এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবীবুর রহমান। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ আগৈলঝাড়া শাখার উপদেষ্টা এসএম ওমর আলী সানি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আকাশ মাহামুদ, সবুজ সরদার, মো. রাছেল, আশ্রাফ রাছেল, মো. আলী, মাহামুদ হোসেন মোল্লা, যুবদল নেতা সাইফুর রহমাল টিটু, সহকারী শিক্ষক রীনা বাড়ৈ, অপর্ণা সরকার, রুমা আক্তার, ইতি বেপারি, অসিমা রায়, প্রিয়াংকা বৈষ্ণবসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, বজ্রপাত একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা প্রতিবছর বাংলাদেশে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটায়। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই এ সময় সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এসএম ওমর আলী সানি বলেন, সচেতনতার মাধ্যমেই বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলতে হবে।
তিনি বজ্রপাতের সময় করণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন—ঘরের ভেতরে অবস্থান করা, জানালা ও বারান্দা এড়িয়ে চলা, টিভি-ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ রাখা, ধাতব বস্তু ও পানির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা, খোলা মাঠ বা উঁচু স্থান পরিহার করা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং নদী-পুকুরসহ জলাশয় থেকে দূরে থাকা। গাড়িতে থাকলে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করে জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
জরুরি পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, আশ্রয় না পেলে মাটিতে শুয়ে না পড়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কুঁকড়ে বসে মাথা নিচু রাখতে হবে।
বক্তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন, সার্জ প্রোটেক্টর ব্যবহার, কৃষকদের জন্য মাঠে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, তাল-নারিকেল-সুপারি গাছ রোপণ, বনায়ন কর্মসূচি জোরদার, স্কুল পর্যায়ে বজ্রপাত বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত আবহাওয়া পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
সভায় জানানো হয়, সাধারণত বজ্রঝড় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। তাই শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা উচিত। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
বিডি প্রতিদিন/আরকে