ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে “বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের গুরুত্ব” শীর্ষক এক প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় তরুণদের ইতিবাচক সামাজিক ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ-এর আয়োজনে সম্প্রতি রোকেয়া হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ও রোকেয়া হল প্রতিনিধি উসয়াতুন হাসানা হাসি, শিরিন আক্তার, রোকেয়া হল প্রতিনিধি ফারজানা আক্তার মিতু, রোকেয়া হল সদস্য আরাফাত তামান্না, সাদিয়া সুলতানা সম্পা, শ্রাবনী, ইতি খাতুন, তানিয়া সুলতানাসহ অন্যান্য সদস্যরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সমাজে মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন আসক্তি, সাইবার ক্রাইম, পরিবেশ দূষণ ও অসহিষ্ণুতার মতো নানা সামাজিক সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুধু দান বা সহায়তামূলক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। একজন শিক্ষার্থী যখন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন, তখন তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা অর্জন করেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়েছে।
তারা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
আলোচনায় বসুন্ধরা শুভসংঘ-এর বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সংগঠনটি দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ, দারিদ্র্য বিমোচনে স্বাবলম্বী কার্যক্রম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারিতে ত্রাণ সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, কৃষক সহায়তা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ নানা মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণদের উদ্দেশে বলেন, একটি সুন্দর, সচেতন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি তরুণকে সম্পৃক্ত হতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের চর্চা বৃদ্ধি পেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দ্রুত সম্ভব হবে।
প্রাণবন্ত আলোচনা, মতবিনিময় ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সচেতনতামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ