তরুণ সমাজের মধ্যে যুক্তিবাদী চিন্তা, বিশ্লেষণধর্মী মনন, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং শালীন মতপ্রকাশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী কলেজ শাখা। কলেজ শাখার সভাপতি মিরাতুজ জাহান মিলির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বিতর্কের আলোচ্য বিষয় ছিল- ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে গণতন্ত্রের চেয়ে দক্ষ নেতৃত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রতিযোগিতায় সরকারি দল তাদের বক্তব্যে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে ওঠে এবং তা দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়। তাদের মতে, দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া গণতন্ত্র ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। তারা উদাহরণ হিসেবে জার্মানির এডলফ হিটলারের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিল শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণেই।
অন্যদিকে বেসরকারি দল গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা ও মৌলিক ভিত্তি তুলে ধরে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া দক্ষ রাজনীতিবিদ তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র অপরিহার্য। তারা আরও বলেন, যেখানে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে জনগণের অধিকারও থাকে না এবং প্রকৃত দক্ষ নেতৃত্বও গড়ে ওঠে না। এডলফ হিটলারের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর হলেও তার একনায়কতান্ত্রিক ও আগ্রাসী নীতির কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং তার নেতৃত্ব স্থায়ী ও কল্যাণকর ছিল না।
সরকারি ও বেসরকারি দলের তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। শেষে বিচারকরা রায় দেন, আজকের সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি এবং বেসরকারি দল বিজয় অর্জন করে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি মিরাতুজ জাহান মিলি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার আলম শাফির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের সম্মানিত উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মো. ইউনুস আলী।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং এমন আয়োজনের জন্য সংগঠনটিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র ও দক্ষ নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো যোগ্য নেতৃত্ব। শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তির চর্চা ও গঠনমূলক বিতর্কের পরিবেশ বজায় রাখতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা শেষে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রথমে রানারআপ সরকারি দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সরকারি দলের দলনেতা ছিলেন তামিম তুলি, ছায়া মন্ত্রী ছিলেন ফারদিন খন্দকার ফুয়াদ এবং সরকারি দলীয় সংসদ হিসেবে অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘের অর্থ সম্পাদক মো. ইক্তিয়ার রিমন।
এরপর চ্যাম্পিয়ন বেসরকারি দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বেসরকারি দলের দলনেতা ছিলেন শাহেদ ইসলাম, উপনেতা ছিলেন নওশীন তাবাচ্ছুম আনজুম এবং বিরোধী দলীয় সংসদ হিসেবে অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘের ইভেন্ট সম্পাদক তানভীর আহমেদ রওনাক।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক বিতার্কিক ও মিরর ডিবেটিং ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, রেনেসাঁ ক্লাবের সাবেক সভাপতি যুবাইর রশিদ এবং বিতার্কিক নুসরাত সাজিয়া।
অনুষ্ঠানে আরও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদল-এর আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশিকুজ্জামান প্রীতম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী কলেজ শাখার সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও প্রীতি চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফাত আহমেদ প্রীতম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তামিম তুলি ও শাহেদ ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম শাফি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন খন্দকার ফুয়াদ, অর্থ সম্পাদক ইক্তিয়ার রিমন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক তানভীর রওনাক, দপ্তর সম্পাদক তৌফিকুর রহমান তৌফিক, নারী বিষয়ক সম্পাদক মিষ্টি, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক খাইরুন নেসা জুই, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নীরবসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য ও উপদেষ্টাবৃন্দ।
সবশেষে বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ