শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:৪৯
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:০৪
প্রিন্ট করুন printer

শ্রীমঙ্গলে সরকারি গুদামে জমা পড়েনি একমুঠো ধান!

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলে সরকারি  গুদামে জমা
পড়েনি একমুঠো ধান!

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আমন সংগ্রহ অভিযানে একমুঠো ধানও জমা পড়েনি সরকারি গুদামে। এ উপজেলায় আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৪৪২ মেট্রিক টন। আর সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৪০ টাকা মণ। প্রথম তালিকাভুক্ত কৃষকদের নিকট থেকে এই ধান সংগ্রহের সময় শেষ হয় গত ২৫ জানুয়ারি। আর এই সময়ের মধ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ২য় তালিকার কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহের নিদের্শনা দেয়া ছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  কিন্তু এখনো ফাঁকা রয়েছে সরকারি গুদাম।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরকারি দামের চেয়ে আড়তে ধানের দাম বেশি।  তাছাড়া রয়েছে গোডাউনে ধানের আদ্রতা পরিমাপ, চিটা পরিষ্কার, লোড-আনলোড ও পরিবহন খরচ। এসব ঝামেলার কারণেই কৃষকরা গোডাউনমুখী না হয়ে আডতে ধান বিক্রি করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি গুদামে ধান জমা না হওয়া মানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আর বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এর প্রভাব পড়বে দেশের মানুষের উপর। 
  
গত বছরের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রে ২০২০ সালের বোরো ধান সংগ্রহের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২০-২১ আমন মৌসুমের শুরুতে উৎপাদক কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে দুইটি কৃষক নির্বাচন তালিকা করার জন্য বলা হয়েছিল। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭২ হাজার ২৭৬ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে আমাদের কাছে কৃষকের তালিকা এসেছিল। কিন্তু দাম কম থাকায় কৃষকরা গোডাউনে ধান বিক্রিতে সম্মতি দেয়নি, তাই আর লটারি করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ধানের দাম আরও বৃদ্ধি করা হলে গোডাউনে ধান দিতে কৃষকরা উৎসাহিত হবে।’

দক্ষিণ উত্তরসুর গ্রামের কৃষক কাজী আ. হক জানান, মোটা-চিকন সব ধানেরই  সরকারিভাবে এক মূল্য। আর আড়তে জাত হিসেবে দাম ভালো পাওয়া যায়। 

নওয়াগাঁত্ত গ্রামের কৃষক বকুল মিয়া বলেন, শুধু দাম নয়, ‘সরকারি গোডাউনে ধান নিয়ে গেলে নানান ঝামেলায় পড়তে হয়। তাদের উৎকোচ না দিলে ধানে আদ্রতা কম বা চিটা পরিমাণ বেশি; একটা না একটা অজুহাত তারা বের করবেই। লোড-আনলোডেও শ্রমিকদের টাকা দিতে হয়। এই সব খরচ মিটিয়ে এক মণ ধানের দাম পড়ে ৯০০ টাকা।’

পশ্চিম শ্রীমঙ্গলে কাঞ্চন দাশ বলেন,‘আড়তে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের কোন খরচ নেই। তারা কৃষকের বাড়ি থেকেই ধান সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। 

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তকবির হোসেন বলেন, ‘বাইরে দাম বেশি থাকায় কৃষকরা আমাদেরকে ধান দেয় নাই।’

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকরা আমন ধান দিতে আসে নাই। কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম মেনেই আমাদের ধান নিতে হয়।’

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হাটহাজারি ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কৃষকদের গোডাউনমুখী করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। সংগ্রহ অভিযানের সময় মাঠপর্যায়ে ব্যাপক হারে ফলাও করে প্রচার প্রচারণা করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়ে দৈনিক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিয়ে হলেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে খাদ্য সংগ্রহ করতে হবে। কারণ সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলে আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে।’ 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য