শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ মার্চ, ২০২১ ১২:১৮
আপডেট : ৫ মার্চ, ২০২১ ১২:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

সন্ধ্যা নামলেই দক্ষিণ সুরমার যেসব স্থানে বসে ‘রঙ্গিন আসর’

অনলাইন ডেস্ক

সন্ধ্যা নামলেই দক্ষিণ সুরমার যেসব স্থানে বসে ‘রঙ্গিন আসর’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জুয়া, মাদক ও পতিতাবৃত্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও মূল হোতারা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও কলোনিতে পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি রমরমা জুয়ার আসর বসছে প্রতিদিন। কয়েকটি কলোনি ও আবাসিক হোটেলে পুলিশ অভিযান দিয়ে জুয়াড়িদের আটক করলেও তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২৭নং ওয়ার্ড এলাকার একটি কলোনিতে জুয়ার আসর থেকে মোগলাবাজার থানাপুলিশের অভিযানে এক সরকারি চাকরিজীবিসহ ২ জুয়াড়িকে আটক করলেও বাকি ১০/১২ জন জুয়াড়ি ছাদের উপর থেকে পালিয়ে যায়। আটক দুইজনকে কোর্টে চালান দিলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও জুয়া খেলার সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

জামিনে বেরিয়ে আসা সরকারি সেই চাকরিজীবিকে ‘কোর্ট-মামলা ইত্যাদি আমার হাতের মুঠোয়। আটক করে বেশিদিন রাখতে পারবে না। আমিও কোর্টে চাকরি করি’ এমন মন্তব্য করতে শুনা গেছে।

এদিকে, মোগলাবাজার থানা এলাকার কুচাইয়ে একটি জমির মধ্যে উপরে চান্দুয়া কাপড় দিয়ে বেষ্টিত করে জুয়ার আসর বসে। বিভিন্ন চায়ের টং দোকানে কিশোররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আইপিএল খেলায় বাজি ধরে। এতে করে কিশোর অপরাধও বেড়ে চলছে দক্ষিণ সুরমায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কদমতলি পয়েন্টের আবাসিক হোটেল রুচি, প্রবাস, কাশবন, সিলেট রেওলয়ে স্টেশনে টিকেট কালোবাজারি আলমগীর আল ফেরদৌস শপিং কমপ্লেক্স একটি আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে পতিতাবৃত্তি ও জুয়ার আসর বসায়। মাঝে মধ্যে পুলিশ অভিযান দিলেও ২/১ দিন বন্ধ থাকার পরে আবারও চলতে থাকে এসব অনৈতিক কর্মকান্ড।
    
দক্ষিণ সুরমায় সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে কদমতলি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমাদের দক্ষিণ সুরমায় কিশোররা যেভাবে অপরাধের সাথে লিপ্ত হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে তারা বড় ধরণের অপরাধীতে পরিণত হয়ে এবং দেশ ও জনগণের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে। বিভিন্ন কলোনিতে বসবাসরত কিশোরদের সঙ্গ নিয়ে তারা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এখনই তাদের দমন না করলে কিশোর প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।  

এ ব্যাপারে এসএমপি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, কয়েক দিনের ভিতরে আমরা দক্ষিণ সুরমা এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ জন নারী পুরুষকে আটক করি এবং মোগলাবাজার থানা ও দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় অভিযান দিয়ে ৩০/৩৫ জন জুয়াড়িদের আটক করি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

দক্ষিণ সুরমা থেকে অপরাধ নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য