২৬ জুলাই, ২০২১ ১৮:৪৯

উত্তাল সাগরে ইলিশ ধরতে ঝুঁকি নিচ্ছেন না জেলেরা

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:

উত্তাল সাগরে ইলিশ ধরতে ঝুঁকি নিচ্ছেন না জেলেরা

সাগর থেকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা নেই। চলতি সপ্তাহে পুরোটাই কাটবে মুষলধারে বৃষ্টি। এমন পরিস্থিতিতে সাগরও রয়েছে উত্তাল। সবমিলে সাগরে ইলিশ মাছ ধরতে ঝুঁকি নিচ্ছেন না অধিকাংশ জেলে। তবে অভাব-অনটনের কারণে কিছু সংখ্যক জেলে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতেও চেষ্টা করছেন। তাছাড়া এবার ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ধরার টার্গেট রয়েছে বলে সামুদ্রিক মৎস অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে মাছ ধরতে অধিকাংশ জেলেরা সাগরে যেতে না পারলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, উপকরণ এবং খাদ্যসামগ্রী ট্রলারে ওঠানো শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকেই। কর্ণফুলী তীরের বিভিন্ন ঘাটে জাল ও ফিশিং ট্রলারের প্রস্তুতিও রয়েছে।

হালিশহরের নিরঞ্জন জলদাস বলেন, মাছ ধরা ও মাছ বিক্রির ওপর পরিবারের সদস্যরা সম্পূর্ণ নিভর্রশীল। ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর আবারও মাছ ধরতে পারবো। তবে বেশি লাভের জন্য তো আর জীবনের ঝুঁকি নিতে পারি না। এতদিন যখন কষ্ট করছি, আরও দু চারদিন কষ্ট করব। সাগর শান্ত হলেই সাগরে যাবেন।

তিনি বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেও কয়েকজন সাগরের কাছাকাছি মাছ ধরছে। যদিও সেই সংখ্যাটি খুবই কম বলে জানান তিনি।

সামুদ্রিক মৎস অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মঞ্জুর আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরা গত ১৯ মে মধ্য রাত থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গত ২৩ জুলাই মধ্য রাত থেকে সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ। এখন আর জেলেদের মাছ শিকারে যেতে বাধা নেই। তবে সাগর উত্তাল হলেও কিছু কিছু জেলে ঝুকি নিয়ে মাছ ধরছেন বলে জানান  তিনি।

সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর, স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর আনন্দবাজার ঘাট, কাট্টলী এলাকার সমুদ্র তীর, ফিশারি ঘাটসহ কয়েকটি ইলিশ অবরতন কেন্দ্র রয়েছে। দুই মাস পর সেই ঘাটে আবার জেগেছে জেলেসহ ক্রেতাদের প্রাণচাঞ্চল্য। জাল, বোট ও জেলেদের পদচারণায় আবারও ব্যস্ত হয়েছে ঘাটগুলো। ইলিশের বংশ বিস্তারের জন্য সরকার ঘোষিত দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা  শেষে আবারও শুরু হল সাগরে ইলিশ ধরার যজ্ঞ। ১৯ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর গত ২৩ জুলাই মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রাকৃতিই আবারও জেলেদের হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রকৃতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত সাগরমুখী হতে পারছেন না জেলেরা। সাগর উত্তাল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সাগরে  যেতেও সাহস পাচ্ছেন না অধিকাংশ জেলে। চলতি বছর ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণের টার্গেট ঠিক করেছে মৎস অধিদপ্তর। দুই মাসের বিধিনিষেধ জেলেরা ঠিকমতো পালন করায় এবার ইলিশের প্রজনন ও বিস্তার ভালোভাবে হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার মুষলধারে বৃষ্টিসহ চলতি সপ্তাহের পুরোটাই কাটবে বৃষ্টিতে। লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্য ঘটেছে। যার কারণে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। লঘূচাপ বড়জোর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। নিম্নচাপে পরিণত হলে মুষলধারে বৃষ্টি ঝরিয়ে এটি দুর্বল হয়ে যাবে।

জানা গেছে, সরকারিভাবে সারা দেশে নিবন্ধিত ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৫ জন জেলে ও জেলে শ্রমিক রয়েছে। বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে ৩০টি। যান্ত্রিক মৎস্য নৌযান রয়েছে ৩২ হাজার।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর