শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:৪৫

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কাটেনি ধোঁয়াশা

কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসবে তা নিয়েও সংশয়

আকতারুজ্জামান

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কাটেনি ধোঁয়াশা

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তিতে সরকার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার কথা বললেও এ পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসবে, তা নিয়েও রয়ে গেছে সংশয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না চাইলে তাদের বাদ দিয়েই আয়োজন করা হবে কেন্দ্রীয় এ ভর্তি পরীক্ষার। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার খসড়া রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই এ রূপরেখা সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কাছে পাঠানো হবে। এর পরই শুরু হবে চূড়ান্ত কর্মপ্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য একমত হয়েছে। এ অবস্থায় এ চার বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত পরীক্ষার রূপরেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন করবের্। একাডেমিক কাউন্সিল সায় দিলে তবেই তারা সমন্বিত পরীক্ষার দিকে এগোবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় আসবে কিনা- জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দেননি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ভর্তি কার্যক্রমসহ অন্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয়। উপাচার্য বলেন, এই এক বাক্যের বাইরে আর কোনো বক্তব্য নেই। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার রূপরেখা প্রণয়ন কমিটির সদস্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী জানান, বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার জন্য পৃথক তিনটি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। তিন শাখায় তিন দিন ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। প্রতি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো কাছের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেন্যু সিলেক্ট করে পরীক্ষায় বসতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি ভর্তিচ্ছুদের একটি স্কোর নির্ধারণ করে দেবে। পরে প্রতি বিশ^বিদ্যালয় প্রয়োজনীয় শর্তাবলি সংযোজন করে পৃথক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত স্কোরকে বিবেচনা করেই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তারা বিশেষায়িত বিভাগগুলোর (স্থাপত্য, চারুকলা ও সংগীত) বাইরে শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার স্কোর সংযুক্ত করেই মেধা তালিকা তৈরি করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি দফায় দফায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। এ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সমন্বিত প্রক্রিয়ায় ভর্তি চালু করা হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি এ প্রক্রিয়ায় না আসে তবে তাদের বাদ দিয়ে এ আয়োজন করা হবে।’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা খুব ভালো উদ্যোগ। পাশের দেশ ভারতে গত ১০ বছর ধরে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর