শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৮

অগ্নিঝুঁকিতে বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন

যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই রংপুরে ♦ উদ্বিগ্ন ঝুঁকিতে বাসিন্দারা

নজরুল মৃধা, রংপুর

অগ্নিঝুঁকিতে বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন

যথাযথ অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই রংপুরের বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে। ফলে ভবনগুলোর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি পাশাপাশি অসংখ্য মানুষও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে। ভবন মালিকরা আইন মেনে ভবন তৈরি না করার ফলেই এমন ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ২ মার্চ নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জামাল মার্কেটে আগুন লেগে কমপক্ষে ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। এতে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়। নিয়ম মেনে মার্কেটটি নির্মাণ করা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো বলে মনে করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, তৈরি করা ভবনগুলোতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তৈরি করতে বারবার তাগাদা সত্ত্বেও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের কথা শুনছে না ভবন মালিকরা। রংপুর জেলায় অন্তত শতাধিক বহুতল ভবন রয়েছে, যেগুলো অগ্নি আইন না মেনে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো তৈরি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, ‘অগ্নিপ্রতিরোধ ও অগ্নি হইতে উদ্ধার আইন’ অনুসারে এসব বহুতল ভবনে নিজস্ব স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিজস্ব পাম্প, রাইডার, গ্যাস মাস্কসহ কয়েকরকম ডিটেক্টর, আলাদা বহির্গমন পথ, ভবনের ওপরে ও নিচে সংরক্ষিত পানির ব্যবস্থা, ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়নি। কোথাও কোথাও লোক দেখানো দু-একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ঝোলানো থাকলেও এসবের কোনো কোনোটি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বারবার তাগদা দিয়ে চিঠি দিলেও ভবন মালিকরা কোনো সাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন ভবনগুলোর মধ্যে আরডিআরএস, ডেন্টাল কলেজ, প্রাইম হসপিটাল, নর্থ ভিউ, ক্যাসপিয়া, গোল্ডেন টাওয়ার, শাহ আমানত, গ্রান্ড প্যালেসের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের নামও রয়েছে।

এসব ভবনের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও মানুষের জীবন রয়েছে অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে। একই রকম অবস্থা জেলার প্রায় ৩০০ বাণিজ্যিক ভবন ও বিভিন্ন বাজার ও বিপণিবিতানের। এসব ভবনে সবসময় লোকজনের ভিড় থাকলেও অগ্নিনির্বাপণে যথাযথ কোনো ব্যবস্থা নেই। সিটি করপোরেশন থেকে ভবনের নকশা ফায়ার সার্ভিসের কাছে জমা দিয়ে ভবন মালিকরা অঙ্গীকার করে যথযথ অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা রেখে ভবন কিংবা মার্কেট নির্মাণ করবেন। কিন্তু যথযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়। টাকা খরচের ভয়ে ভবন মালিকরা নিয়ম মানছেন না। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। এভাবে জেলার অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক দাফতরিক ও বহুতল ভবন একই রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুরের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, আমরা বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বহুতল ভবন মালিকরা নিয়ম মানছেন না। বর্তমান সিটি করপোরেশন যেসব ভবনের নকশা দিচ্ছে, সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছাড়পত্র নেওয়ার পরে ভবন মালিকরা নকশা অনুযায়ী কাজ করছে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর