Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৬

গাছতলায় পাঠদান

বৃষ্টি নামলেই ছুটি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

গাছতলায় পাঠদান
শরীয়তপুর সদরে চর ডোমসার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছতলায় পড়ানো হচ্ছে - বাংলাদেশ প্রতিদিন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের চর ডোমসার গ্রামে চর ডোমসার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘরটি কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে পাশের ফসলি জমিতে পড়ে আছে। ফলে গাছতলায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ডোমসার ইউনিয়নের চর ডোমসার, ভাসকদ্দি ও বেদেপল্লী গ্রামে স্কুল না থাকা গ্রামগুলোর মানুষের কথা চিন্তা করে ১৯৭০ সালে স্থানীয় সিরাজুল হক মোল্লা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ঘরটি উড়ে যায়। সেই থেকে ক্লাস হচ্ছে গাছতলায়। বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী ১৫০ জন। শিক্ষক আছেন তিনজন। ভবন না থাকায় প্রতি বছরই শিক্ষার্থী কমছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিয়া আক্তার ও শারমিন আক্তার বলেন, তালগাছ ও শিমুলগাছ পুরোপুরি রোদ ঠেকায় না। বৃষ্টি শুরু হলে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়। এই পরিবেশে উপকরণও ব্যবহার করা যায় না। শিক্ষার প্রতি কোমলমতি শিশুদের নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া, রাজিব, জিহাদ, মারিয়া ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল বলে, সামনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। খুব সমস্যা হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবক মোতালেব মোল্লা বলেন, ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা আক্তার বলেন, কাগজপত্র, ফাইলপত্র, চক-ডাস্টার ইত্যাদি ব্যাগে ভরে প্রতিদিন বাড়িতে নিতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলটি জাতীয়করণ আর একটি ভালো ভবন হলে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ পেত। ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া মাদবর বলেন, জাতীয়করণ করতে সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি শিগগিরই জাতীয়করণ হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত বলেন, বিদ্যালয়ের ঘরটি ঝড়ে পড়ে গেছে। শুনেছি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। ইউএনও মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, স্কুল ঘরটি ঝড়ে উড়ে গেছে। ঘর তৈরি করতে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের বরাদ্দ দেওয়া যায় কি-না সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য