শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০২১ ২০:১৩
প্রিন্ট করুন printer

মোহনগঞ্জ অডিটরিয়ামে লাগছে নিম্নমানের দরজা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

মোহনগঞ্জ অডিটরিয়ামে লাগছে নিম্নমানের দরজা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ৫০০ আসনবিশিষ্ট নবনির্মিত অডিটরিয়ামে ফাটা দরজা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে
Google News

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ৫০০ আসনবিশিষ্ট নবনির্মিত অডিটরিয়ামে ফাটা দরজা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু ফাটা নয়, দরজায় লাগানো কাঠের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

প্রতিবাদে কর্ণপাত না করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল ঠিকাদার। একপর্যায়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম রফিক ও হাবিবুর রহমান হানিফসহ বেশ কয়েকজন গিয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও ইউএনওকে বিষয়টি জানান। পরে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন গিয়ে দরজার ফাটা অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশপাশি সংশ্লিষ্টদের এসব দরজা পরিবর্তন করে ভালোমানের দরজা লাগাতে বলেন।

রফিকুল ইসলাম রফিক ও হাবিবুর রহমান বলেন, পাঁচশত আসনের বড় একটা অডিটরিয়ামে এত বাজে দরজা লাগানো হচ্ছে দেখে আমরা অবাক হচ্ছি। দরজার কাঠগুলো একদম সাদা। অধিকাংশ দরজার কাঠেই বড় বড় ফাটা। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানিয়েছি। উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন গিয়ে তাদের ওই ফাটা দরজাগুলো বদলে দিতে বলেছেন। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে শেষ দিকে ৫০০ আসনবিশিষ্ট এ অডিটরিয়ামের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কাজটি পায় বাছেদ প্রকৌশলনী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন দ্বিতল এ অডিটরিয়াম ভবনটির বরাদ্দ ধরা হয় ৬ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

ইটের গাঁথুনি শেষ হলেও পলেস্তরাসহ আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। বর্তমানে চলছে দরজা লাগানোর কাজ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগের ফাটা দরজাগুলোই ফুটিং দিয়ে এর গর্ত ও ফাটা অংশগুলো ভরাট করছেন রঙ মিস্ত্রিরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রঙ মিস্ত্রি নাসের মিয়া, কিরণ মিয়া ও কাঞ্চন মিয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমরা প্রধান মিস্ত্রি মিলন মিয়ার অধীনে কাজ করি। তিনি যেভাবে বলছেন সেভাবেই করছি।

প্রধান রঙ মিস্ত্রি মিলন মিয়া বলেন, এগুলো গামারি কাঠ। এ কাঠ পোকায় ধরে বেশি। ফলে এমন গর্ত গর্ত হয়ে যায়। আর গামারি কাঠে কোনো সার হয় না। ফলে এমন সাদা দেখাচ্ছে। 

এ অডিটরিয়ামের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা মো. ফরিদ মিয়া জানান, এখানে ৫৪টি দরজা রয়েছে, এটা জানি। দরজায় সমস্যার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

এ বিষয়ে কাজের ঠিকাদার বাছেদ মিয়ার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান এ কাঠে কোনো সমস্যা নেই। গামারি কাঠে একটু পোকা ধরে, সেকারণে গর্ত রয়েছে। আর গামারি কাঠে কোনো সার হয় না। ফলে এমন সাদা দেখাচ্ছে।

উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইদ্রিছ মিঞা বলেন, তাদের বলা হয়েছে ঠিক করে দেবে। এলজিইডি'র উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন প্রথমে বলেন, ওই ফাটা দরজাগুলো পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। দুটো দরজার অবস্থা বেশি খারাপ, পরিবর্তন করতেই হবে। পরবর্তীতে তিনি বলেন, গামারি কাঠে পোকায় ধরে তাই গর্ত হয়ে যায়। রঙ করলেই ঠিক হয়ে যাবে। তবে কাজ এখনো চলমান। পরিবর্তন করারও সুযোগ আছে। 

বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত করে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, এখনই প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনকে বলছি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


 

 

 

এই বিভাগের আরও খবর